এ সফর সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের কার্যালয়ের একটি সূত্র বণিক বার্তাকে জানিয়েছে, সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদিনের সফরটিকে দুই প্রতিবেশী দেশের সুসংহত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক রূপরেখা চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি এবং জ্বালানি খাতের সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু স্থান পেতে পারে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পরপরই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। আগামী সেপ্টেম্বরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয়ই প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠকটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তারেক রহমানের ক্ষমতায় ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতকে ঢাকার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করেছে।

এনডিটিভি বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপড়েন তৈরি হয়। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক দাবির কারণে দুদেশের কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়ছিল।

গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি দায়িত্ব নেয়ার পর ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের গতি বেড়েছে। এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। সর্বশেষ ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় পরিবেশ স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের এ সফরে সব অমীমাংসিত সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান না এলেও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সরাসরি বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সংকট নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ তৈরি করবে। এ বৈঠকে বিশেষ অগ্রাধিকার পেতে যাচ্ছে পানি বণ্টন ইস্যু। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক ‘গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি’র মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি দুদেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। তাছাড়া শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটিও আলোচনার টেবিলে উঠতে পারে।