চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে বালিবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় মাটিবোঝাই ট্রলারের পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাল্কহেডের সুকানিসহ চারজনকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। এছাড়া তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া ট্রলারের শ্রমিক ফরিদ হোসেন জানান, মাটিভর্তি ট্রলার নিয়ে মৈশাদীর দিকে যাওয়ার সময় মমিনপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা এমভি ইকবাল হোসেন-১ নামে একটি বালিবাহী বাল্কহেড ধাক্কা দেয়। এতে মাটিবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা ১১ শ্রমিকের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন আউয়াল মাঝি (৫৫), মোবারক হোসেন (৩৫), নাছির হোসেন (৩২), আলামিন (৩৫) ও কালা মিয়া (৩৩)। তাদের সবার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায়। তারা চাঁদপুরে ইটভাটায় মাটিকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক বলেন, বালিবাহী বাল্কহেড হাজীগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে আসছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর মমিনপুর এলাকায় মাটিবাহী ট্রলারের সঙ্গে ওই বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়। এরপর বাল্কহেড ও ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে নদীতে পড়ে যান ১১ শ্রমিক। পরে অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও পাঁচ শ্রমিক নিহত হন। এদিকে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাল্কহেডটির সুকানিসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বাল্কহেডটিও। এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া মামলার প্রস্তুতিও চলছে।

চাঁদপুর সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলাম এ ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, বালিবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় পাঁচ শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।

চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমরা বালিবাহী বাল্কহেডটি আটক করেছি। বাল্কহেডের সুকানিসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হবে। এছাড়া তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।