পরনে পরিপাটি পোশাক। চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ। তিনি ব্যবহার করেন দামি গাড়ি। মো. এনামুল নামের ৬০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শিল্পপতিদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেন বড় অংকের অর্থ। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর কাছে দুটি স্পিনিং মিল কেনার আগ্রহের কথা জানান তিনি। পরে ওই ব্যবসায়ী ২ হাজার কোটি টাকায় দুটি স্পিনিং মিল বিক্রি করতে রাজি হন। এ অর্থ জাল পে-অর্ডারে পরিশোধ করেন ওই প্রতারক। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে স্পিনিং মিল মালিকের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ধার নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ শাহজাহান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি শাহ ফতেহউল্ল্যাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও জালাল আহম্মেদ স্পিনিং মিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। মামলায় আসামি করা হয়েছে বাগেরহাটের মোল্লা আব্দুল গণির ছেলে মো. এনামুল, লালমনিরহাটের মৃত গফুর সরকারের ছেলে সরকার মাহবুবুল ইসলাম ও নীলফামারীর আব্দুল মোতালেবের ছেলে মিনহাজুস সাবির।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, একটি স্পিনিং মিল ও একটি টেক্সটাইল মিল কেনার জন্য গত বছরের নভেম্বর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন বাগেরহাটের এনামুল। তার কাছে পে-অর্ডারের অনেক টাকা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে শাহ ফতেহউল্ল্যাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও জালাল আহম্মেদ স্পিনিং মিলের মতিঝিল অফিসে গিয়ে কারখানা দুটির জন্য ২ হাজার কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণ করেন। মূল নির্ধারণের পর জরুরি প্রয়োজনে ২ লাখ টাকা দরকার বলে জানান এনামুল। এরপর পে-অর্ডার দেখিয়ে কয়েক দফায় ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সর্বমোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় প্রতারক চক্রটি। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শাহ ফতেহউল্ল্যাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও জালাল আহম্মেদ স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বণিক বার্তাকে বলেন, বসুন্ধরায় আমাদের বেশকিছু জমি রয়েছে। সেখানে জমি বিক্রির সাইনবোর্ড থেকে এ চক্র আমার নম্বর সংগ্রহ করে। প্রথমে তারা জমি নেয়ার জন্য আসে। পরে আমার স্পিনিং মিল রয়েছে জেনে এনামুল তার শিল্প-কারখানা করার ইচ্ছা পোষণ করেন। সে অনুযায়ী আমাদের দুটি মিল কিনবে বলে তিনিই ২ হাজার কোটি টাকা দাম নির্ধারণ করেন। আমাকে যে পে-অর্ডারগুলো দেন, সেগুলো ব্যাংকে নিয়ে গেলে জানতে পারি এগুলো জাল। কিন্তু তার আগেই এ চক্র আমার কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের টার্গেট করে ফাঁদ পাতছেন। তারা মূলত জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রির সাইনবোর্ড থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করছেন। পরবর্তী সময়ে নিজেদের অনেক টাকার পে-অর্ডার রয়েছে জানিয়ে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। এ সময়ের মধ্যে বিশ্বস্ততা অর্জন করে উল্টো জমির মালিকের কাছ থেকে জরুরি প্রয়োজন জানিয়ে অর্থ নিয়ে লাপাত্তা হচ্ছেন। অনেকে আবার জমি বা ফ্ল্যাটের কাগজ যাচাই করে দেখার কথা বলে নিয়ে তা মর্টগেজও রাখছেন।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছে। তাদের সঙ্গে আরো কেউ সম্পৃক্ত রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জাল পে-অর্ডারগুলো তারা কীভাবে সংগ্রহ করলেন, সে বিষয়টিও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।










