এটি টেলিকম খাতের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনকে সীমিত করছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে প্রতি কোয়ার্টারে ১৫ পয়সা করে কমিয়ে বছরের শেষ নাগাদ এ মূল্যসীমা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে ভয়েস ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। টেলিকম অ্যান্ড আইসিটি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্লাটফর্ম (টিআইপিএপি) ওই সেমিনারের আয়োজন করে। টিআইপিএপির আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিকম ও ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ।
মূল প্রবন্ধে মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিটিআরসির ২০১৮ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভয়েস ফ্লোর প্রাইস চালুর ফলে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের সম্মিলিত মাসিক আয় প্রায় ৩৮৭ কোটি টাকা বেড়েছিল। ভয়েস সেবায় অতিরিক্ত লাভের সুযোগ থাকায় অপারেটররা ডেটা ও ইন্টারনেট সেবায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে ডিজিটাল অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। গ্রামীণ ব্যবহারকারীরা, মোবাইলে কথা বলার জন্য তুলনামূলক বেশি খরচ করছেন। অন্যদিকে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটভিত্তিক কল প্রায় বিনামূল্যে করতে পারছেন, যা একটি স্পষ্ট ডিজিটাল বিভাজন তৈরি করছে।’
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি ধাপে ধাপে ভয়েস ফ্লোর প্রাইস কমিয়ে সম্পূর্ণ বাতিল করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ডেটা সেবায় কর কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে, ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে হঠাৎ করে ভয়েস ফ্লোর প্রাইস কমালে মোবাইল ইন্টারনেটের দাম ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভয়েস থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি বড় অংশ ডেটা সেবাকে ভর্তুকি দিতে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে দেশে ডিভাইস ব্যবহার ৭০ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। দেশে টেলিকম খাতে করের হার অত্যন্ত বেশি। একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে প্রায় অর্ধেকের বেশি অর্থ কর হিসেবে চলে যায়।’
ভয়েস ফ্লোর প্রাইস তুলে নিলে গ্রাহক সুবিধা পাবে বলে সেমিনারে মন্তব্য করেন বিটিআরসির উপপরিচালক মোহাম্মদ ফারহান আলম।
ভয়েস ফ্লোর প্রাইস ইস্যুতে নীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিয়েটস অব বাংলাদেশের সভাপতি হোসেন সাদাত। বাংলালিংকের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল মাসুদ বলেন, ‘ভয়েস ও ডেটা সেবাকে আলাদাভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।’ একটি কার্যকর কস্ট মডেল তৈরি করে, সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মূল্য পর্যালোচনা করা উচিত বলেও তিনি মত দেন।










