নারীর মজুরি বৈষম্য দূর করা ও কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‘সরকারি কৃষি সেবা ও ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তিতে গ্রামীণ নারী কৃষকের অন্তর্ভুক্তি এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ কথা বলেন।

আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য এবং নারীর কৃষক হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়। ভূমিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা হয়তো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব না। কিন্তু আমরা স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে আলোচনার জায়গায় এনে দিতে পারব। বর্তমানে কী সমস্যা হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা একটি মুক্ত ক্ষেত্রের ব্যবস্থা করে দিতে পারি। তাতে কিছুটা হলেও উপকার হবে। আমাদের নারী মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি বড় কার্যক্রমভিত্তিক জায়গা আছে। সে জায়গাটিতে আমি ত্রুটি পেয়েছি। আমরা দুটি জায়গায় কাজ করছি, দুর্নীতি নিধন করতে না পারলেও একেবারে সংকুচিত করে আনা। যে জায়গাগুলোতে অর্থের অপচয় হচ্ছে, সে জায়গাগুলো বন্ধ করে দেয়া। আমাদের যে বেনিফিশারি লিস্ট আছে তা আবার পুনঃবিবেচনা করা।’

রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, ‘নারী ও পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য আছে তা দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরজমান। সংসদে যে সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ করা হয়েছে তা আদৌ মানা হচ্ছে কিনা তা আমরা জানি না। আমরা বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে চেষ্টা করি মেয়েদের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু তারা তো মূলত শ্রমনির্ভর যার কারণে একজন না করলেও, আরেকজনকে নিয়ে নেয়া যায়। কৃষির উদ্ভাবনের দিকেও নারীদের অবদান আছে, সেটাও কিন্তু অদৃশ্য।’

এলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির বলেন, ‘আমরা যখন এ নীতিমালা নিয়ে কাজ করেছি, তখন দেখেছি চার ভাগের ১ ভাগ যারা ভূমিহীন তারা নারীপ্রধান পরিবার। অনেকের স্বামী বেঁচে নেই। তারা খাস জমির মালিক হতে পারে না। কারণ খাস জমি পেতে হলে সক্ষম পুত্র সন্তান থাকা লাগে। এটা নিয়ে প্রতিবার আলোচনা করলেও তা তুলে দেয়া হয়নি। সুতরাং মানসিকতা এমন দাঁড়িয়েছে যে পুরুষ না থাকলে সে পরিবার অচল, কিন্তু উল্টোটাই ঠিক, নারী না থাকলে সে পরিবার অচল।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডির উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা; বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. রেজিয়া খাতুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রঞ্জন সাহা পার্থ এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। সভাপতিত্ব করেন এলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির।