সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানবপাচার, গুম ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও বিস্তৃত দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেয়ার বিধান রেখে নতুন আইন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এপিবিএনের অধীনে সাইবার সেল গঠন, অপরাধ তদন্তের জন্য হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রাখা হয়েছে।

‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পরীক্ষা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর কমিটির বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কমিটির সুপারিশ করা বিলটি উপস্থাপন করেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন।

প্রস্তাবিত আইনে ১৯৭৯ সালের ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে নতুন আইন করার কথা বলা হয়েছে। এতে এপিবিএনের সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, তদন্ত, শৃঙ্খলা, বিচার ও দণ্ডের বিধান নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, কমিটি বিলটি বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে একটি সংশোধনী সুপারিশ করেছে। বিলের দফা-৪-এর উপদফা (১)-এর দ্বিতীয় লাইনে ‘ব্যাটালিয়ন’ শব্দটির পর ‘(এপিবিএন) প্রতিষ্ঠা,’ শব্দগুলো, বন্ধনী ও কমা সন্নিবেশের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনের অধীনে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন), পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়নসহ অন্য ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কার্য সম্পাদনের সুবিধার্থে ইউনিটে সাইবার সেল গঠন করা যাবে। এপিবিএনের প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। এ ছাড়া প্রশাসনিক ও আইনি বিষয় সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আইনজীবী, মনোবিদ, চিকিৎসক, বিচার বিভাগীয় সদস্যসহ প্রয়োজনীয় নন-পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি অথবা প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।