ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১৫ বাংলাদেশীকে সাতক্ষীরা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে আছেন পাঁচ শিশু, আট নারী ও দুইজন পুরুষ। তাদের সবার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন গ্রামে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের শূন্যরেখায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজিবি তাদের সাতক্ষীরা সদর থানায় সোপর্দ করে।
হস্তান্তর হওয়া বাংলাদেশীদের মধ্যে আছেন— শ্যামনগর উপজেলার ছোট ভেটখালী গ্রামের শাহীন সানা (২৭), তার স্ত্রী নিলুফা (১৯) ও মেয়ে শাহিনা সুলতানা (১); একই উপজেলার নওয়াবেঁকী গ্রামের রাবিয়া বেগম (২৯); বড়কুপট গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (২৪), তার স্ত্রী লিপিকা খাতুন (১৬) ও নাজমা খাতুন (৩৪), ছেলে জিম তরফদার (১৪); বয়ারসিং গ্রামের ফারহানা আক্তার (২৬) ও ছেলে ফারহান ঢালী (৭); উত্তর আটুলিয়া গ্রামের সেলিনা খাতুন (৩৮) ও মেয়ে সুরাইয়া ইয়াসমিন (১০); আশাশুনি উপজেলার হিজলিয়া গ্রামের রাবিয়া খাতুন (২৭) ও ছেলে রিয়াদ হাসান (৩) এবং সদর উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের ফুলমতি খাতুন (৭২)।
ফেরত আসা ছোট ভেটখালী গ্রামের শাহীন সানা বলেন, তারা কাজের সন্ধানে বিনা পাসপোর্টে ভারতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে ছিলেন। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার সকালে দেশে ফেরার সময় হাকিমপুর সীমান্তে বিএসএফ তাদের আটক করে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিমুল হক জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বিএসএফ তাদের আটক করে। পরে বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানি কমান্ডার বিকাশ কুমার ও বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবুল কাশেমের নেতৃত্বে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ১৫ বাংলাদেশীকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিজিবি তাদের থানায় সোপর্দ করে। যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার সকালে সবাইকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।










