দিনাজপুর শহরের রেলওয়ে স্টেশন থেকে লিলির মোড় পর্যন্ত অর্ধকিলোমিটার সড়ক। এ সড়কের পূর্ব পাশে জেলা শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচাবাজার বাহাদুর বাজার। আর পশ্চিম পাশে পাইকারি মুদি ব্যবসার আড়ত। শহরের প্রশস্ত সড়কটির দুই পাশের ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে রেখেছে কাপড়ের দোকান। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অস্থায়ী ফলের দোকান ও অটোকিশার অননুমোদিত স্ট্যান্ড। এভাবে দখলের ফলে ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি সরু হয়ে ২০ ফুটে পরিণত হয়েছে। ফলে শহরের ব্যস্ততম এ সড়কে দিনভর লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট।

শুধু লিলির মোড়-বাহাদুর বাজার সড়কই নয়, পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোয় সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস কাউন্টার, সরকারি-বেসরকারি স্কুল, অবৈধ অটোরিকশার ছড়াছড়ি। ফলে শব্দদূষণ এখন শহরবাসীর জন্য নিত্যকার বিড়ম্বনা। তার ওপর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে জোড়াব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে সড়ক বিভাগের ড্রেনেজ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলমান থাকায় ধুলায় আচ্ছন্ন পুরো এলাকা। দীর্ঘসময় ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও নজর নেই প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের।

অন্যদিকে কলেজ মোড় থেকে জেল রোড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে নেই ফুটপাত। মূল সড়ক ধরে হাঁটতে হয় পথচারীদের। এ সড়কের উভয় পাশে তিনটি জ্বালানি তেলের পাম্পসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও বাণিজ্যি প্রতিষ্ঠানসহ সারি সারি দোকানপাট রয়েছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে প্রায় পাঁচ বছর ধরে নানা ফোরামে আলোচনা করে যাচ্ছেন দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, সর্বশেষ গত বছরের ১১ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবর শহরের যানজট নিরসনকল্পে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য চিঠি লেখেন। নাগরিক উদ্যোগের সুপারিশমালায় তিনি শহর থেকে দূরপাল্লার বাস কাউন্টার সরিয়ে মূল টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাক্টর চলাচল ও লোড-আনলোড বন্ধ করা, সড়কের ওপর থেকে পসরা সরিয়ে দেয়া এবং অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবহারের কথা জানান।

সড়কে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশাকে দায়ী করছে শহরবাসী। প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে অটোরিকশার অদক্ষ চালক ও অসম প্রতিযোগিতামূলক বেপরোয়া গতির কারণে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা নিবন্ধন ফি নিয়ে ৪ হাজার অটোরিকশা শহরে চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও অটোরিকশা নিবন্ধন দেয়া শুরু করেন। দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়ার ফলে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করা আর সম্ভব হয়নি। এর ধারাবাহিকতায় শহরে বেড়েছে অটোরিকশার সংখ্যা। জেলা অটোরিকশাচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শহরে এখন ২০ হাজারেরও অধিক ইজিবাইক চলাচল করছে।

যানজট নিরসনের ব্যাপারে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৌরসভার রাস্তাঘাট উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। দূরপাল্লার বাস শহর থেকে সরিয়ে নিতে বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শহরে অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা পরিষদও দায়ী। কারণ উপজেলা পরিষদ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লাইসেন্স দেয়ায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।  তবে খুব দ্রুত সড়কে অস্থায়ী দোকানপাট তুলে দিয়ে যানজট নিরসনে আগের যে কার্যক্রম ছিল সেটি চালু করা হবে।