বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ নগর ও ৬০ শতাংশ গ্রামে বসবাস করলেও সব জনমানুষের জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে পারেনি সরকার। নগরকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্ন কিছু পরিকল্পনা করা হলেও ৬০ শতাংশ জনগণ পুরোপুরি পরিকল্পনার বাইরে থেকে গেছে। এ মুহূর্তে একটি সম্পূর্ণ আবাসিক পরিকল্পনা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনাবিদরা।

আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ‘‌বাংলাদেশের নগর এলাকার আবাসন পরিকল্পনার সংস্কার ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব নগর দিবস ও বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে এ বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক আবু সাদেক বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শহরে বাস করলেও আমরা এ জনসংখ্যার কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিয়ে চিন্তা করি। বস্তিতে বসবাসকারী নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠী আমাদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে কখনোই থাকে না। আমাদেরকে সংস্কারের আগে টেকসই একটি রূপরেখা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। নতুন এ রূপরেখা তৈরিতে নগরীর জনঘনত্ব, সবুজায়ন, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবহন ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল হাউজিং পলিসিতে দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয় যুক্ত করার পাশাপাশি ড্যাপ, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং অবকাঠামো পরিকল্পনাকে সংযুক্ত করতে হবে। জাতীয় আবাসন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিভাগীয় শহরের জন্য তাদের ভৌত কাঠামোর ওপর জোর দিয়ে রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

এছাড়া মোট জাতীয় বাজেটের শতকরা পাঁচ ভাগ আবাসন খাতে বরাদ্দ ও আবাসন খাতে গণসচেতনতা তৈরিতে প্রতি বছর জাতীয় আবাসন দিবস পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আবাসন খাতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠী হন না দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন, সংস্কার মানে ভেঙে দেয়া বা ভেঙে ফেলা, এ মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্পের ফ্ল্যাট বাবদ উচ্চ ডিপোজিট ও কিস্তির টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান বাধা। প্রকল্প সুবিধাভোগী মানুষজন যতটুকু জোগান দিতে পারবেন, সে অনুযায়ী কিস্তির টাকা নির্ধারণ করা দরকার। প্রকল্পগুলোতে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক চক্র কাজ করে।

পরিকল্পনাবিদ ও বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর চারদিকে সংস্কারের বাতাস লাগলেও সংবিধানের অন্যতম মৌলিক চাহিদা আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে আমরা উদাসীন। নতুন বাংলাদেশের আবাসন মডেল কী রকম হবে, কারা আমাদেরকে এ রূপরেখা তৈরি করে দেবে, আমাদের তা জানা দরকার। এই রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য উন্নত দেশগুলোকে অনুসরণ করব নাকি আমাদের গ্রামীণ অঞ্চলকে কেন্দ্রীভূত করে পরিকল্পনা করব, সে ব্যাপারে আমাদেরকে ভাবতে হবে।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী নুরুদ্দীন, পরিবেশবাদী আমিরুল রাজীব ও পরিকল্পনাবিদ আবু নাঈম সোহাগ প্রমুখ।