এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের চাপে দিশাহারা। তাই তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন কি না- সে ব্যাপারে আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ সফরকালে শহরের একটি রেস্তোরায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা) ইয়ামিনুর রহমান ও যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনকে সুষ্ঠুভাবে পুনর্গঠন করা যায়নি। নানামুখী বিশৃঙ্খলার কারণে এখনো নিশ্চিত নয় যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না! তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির দ্বন্দ্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কঠোর অবস্থান নিতে পারছে না, এটা খুবই দুঃখজনক। হাসিনা একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন। সাগর-রুনির হত্যার রহস্য বছরের পর বছরেও উদঘাটন করা যায়নি। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য চলছে হরহামেশাই, যেটি আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে প্রত্যাশা করিনি। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি খুবই সামান্য, আমরা শুধু নাগরিক অধিকার ফিরে পেতে চাই।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, কে ভারতের দালাল, কে পাকিস্তানের দালাল, এসব নিরর্থক বিতর্কে জাতিকে জড়ানো হয়েছে। কে মৌলবাদী, কে নাস্তিক এসব প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও রাজনৈতিক দলগুলো অহেতুক বিতর্ক বন্ধ করতে পারছে না।
রাজনৈতিক দলগুলো বেকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে অতীতের বিভেদ ভুলে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আগামী নির্বাচনে সব ঝুঁকি মোকাবেলা করে জাতিকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান ঝিনাইদহের সংসদীয় আসনের দলের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি জানান, ঝিনাইদহ-১ আসনে এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ঝিনাইদহ-২ আসনে অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান ও ঝিনাইদহ-৩ আসনে মুফতি মুজাহিদুল ইসলাম দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।










