আলুর দরপতনে বর্তমানে ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের দুর্দিন চললেও সে আলু নিয়েই লাভের স্বপ্ন বুনছেন দিনাজপুরের চাষীরা। আগাম জাতের আলু চাষে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলার চাষীরা। তবে আগাম এ আলু চাষে কিছুটা বাদ সেধেছে কয়েকদিন আগের টানা বৃষ্টি।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দিনাজপুরের আলুচাষীরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জমিতে আগাম আলু চাষ করেন। বিগত বছরগুলোতে ভালো লাভ হওয়ায় আগাম আলু আবাদে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ জেলার চাষীরা। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের প্রথম ১০ দিন পর্যন্ত জেলায় আগাম আলুবীজ বপন করা হয়। চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ৪৮ হাজার ৫৭৮ হেক্টর আলু আবাদ ও ১১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৯ টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিন দিনাজপুর সদর উপজেলার উলিপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে জমিতে লাইন তৈরি করে তাতে আলুবীজ বপন করছেন কৃষকরা। এ এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে ছিল। ফলে নতুন করে আবার জমি তৈরি করতে হয়েছে। এ বছর ১ বিঘা ৫ কাঠা জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় আলু চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৩০-৩২ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে বিঘাপ্রতি ৫০-৬০ হাজার টাকার আলু বিক্রি করতে পারবেন তিনি।
জেলার খানসামা উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, বাজারে নতুন আলুর ভালো দাম পাওয়া যায়। বীজ বপনের পর ৫৫-৫৮ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। স্বল্পসময়ে বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা আউশ ধান ওঠার পর পরই আলু আবাদে মাঠে নেমেছেন। নতুন আলু ওঠার সময় বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন আগাম আলু কিনতে। প্রতি বছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম আলু বিক্রি করেন তারা।
জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের কৃষক গোলাম মোস্তফা তার ২০ কাঠা জমিতে আগাম জাতের বারি আলু ৭ চাষ করেছেন। তার আলুক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে লাইন করা আলুগাছের গোড়ায় মাটি দিচ্ছেন। কেউ পানি সেচের জন্য কোদাল দিয়ে তৈরি করছেন নালা। তিনি জানান, আগাম আলুতে খরচ বেশি হলেও বৈরী আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কবলে না পড়লে ভালো লাভ হয়।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, আগাম আলু আবাদের জন্য প্রয়োজন অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি। যাতে আলুক্ষেতে বৃষ্টির পানি সহজে জমতে না পারে। দিনাজপুর জেলায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গম ও ভুট্টার আবাদ হয়। কৃষকরা আলরু পর ওই জমিতে ভুট্টাসহ অন্য ফসলের আবাদ করেন। এরই মধ্যে ১০ হাজার ৪০০ হেক্টর আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আগাম আলুর আবাদ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। কিছুদিন আগের অতিবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের আলুক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সেসব কৃষক পুনরায় জমি তৈরি করে আলুবীজ বপন করছেন।
তিনি আরো জানান, আগাম আলুর জমিতে এমনিতেই প্রচুর পরিমাণে সার থাকে, পাশাপাশি আলু তোলার পর আলুগাছও সারে পরিণত হয়। ফলে ওই জমিতে পরবর্তী আবাদের জন্য খুব একটা সারের প্রয়োজন হয় না। ফলে আগাম আলু চাষে কৃষক দুই দিক থেকে লাভবান হয়।










