অতিবৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকিতে রংপুর বিভাগের তিনটি জেলার অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। পানি বাড়লে যেকোনো সময় এসব বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকি বেশি থাকায় দুটি বিদ্যালয় ভবন ও শিক্ষা উপকরণ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যাও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে ঈদের ছুটি চলায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ। ছুটি শেষে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা না হয়, সেজন্য বিকল্প স্থানে পাঠদানের নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজাহিদুল ইসলাম।

রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও যমুনা নদী। বর্ষাকালে উজানের পানি ও অতিবৃষ্টিতে আগ্রাসী রূপ নেয় এসব নদ-নদী। প্রতি বছর নদীসংলগ্ন চরে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিদ্যালয়গুলো। বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উজানের পানির ঢলে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। এগুলো হচ্ছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার গোয়াইলপুরি মণ্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝুনকার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলিপুর উপজেলার পশ্চিম সন্তোষ অভিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম বজরা সরকারি বিদ্যালয়।

এদিকে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় নদীভাঙনের শিকার হওয়ার আগেই দুটি বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয় দুটি হলো কাউয়াবাঁধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিপুলিয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জেলার আরো ১০টি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে।

রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএম শাহাজাহান সিদ্দিক বলেন, ‘‌তার জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় প্রায় ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‌জেলার নদীসংলগ্ন চরের দুই শতাধিক বিদ্যালয় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরই মধ্যে চারটি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরের বালি প্রতি বছর অপসারণ করা হলে নদীসংলগ্ন অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব।’

বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‌প্রতি বছর বর্ষাকালে চরে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ভাঙনের শিকার হয়। এ বছরে এরই মধ্যে চারটি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। দুটি বিদ্যালয়ের স্থাপনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেক বিদ্যালয় ক্ষতির ঝুঁকিতে। তাই চরগুলোয় মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো তাৎক্ষণিক অর্থ সহায়তা যাতে পায়, সেজন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।’