প্রতিষ্ঠানটির মতে, পর্যাপ্ত গণপরিবহন সংযোগ ও সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া টার্মিনালগুলো সরিয়ে নিলে যাত্রীদের সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়বে, পাশাপাশি সৃষ্টি হবে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি।

গতকাল এক বিবৃতিতে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যথাক্রমে কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, টঙ্গী ও কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের উদ্যোগ যানজট সমস্যার টেকসই সমাধান নয়। বরং এতে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়া যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তি তৈরি হবে।’

আইপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন টার্মিনালগুলো রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশ থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এসব স্থান থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছতে বর্তমানে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকার যানজটের জন্য শুধু বাস টার্মিনাল দায়ী নয়; বরং পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং, সড়কে যাত্রী ওঠানামা এবং টার্মিনাল কেন্দ্রিক অনিয়মই মূল সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধান না করে টার্মিনাল সরিয়ে নিলে সংকটের মূল কারণ অমীমাংসিতই থেকে যাবে।

আইপিডি জানিয়েছে, টার্মিনাল স্থানান্তরের ফলে ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ সংকট প্রকট হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়বেন। রাতের বেলায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

সংস্থাটির মতে, বর্তমানে মেট্রোরেল, বিআরটি ও নগর বাসসেবার সমন্বিত নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার যাত্রীকে নগরীর প্রান্তবর্তী টার্মিনাল থেকে মূল শহরে আনা-নেয়ার চাপ বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থা সামাল দিতে পারবে না।

বিবৃতিতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, লন্ডন, নিউইয়র্ক, দিল্লি ও কুয়ালালামপুরসহ অনেক বড় শহরে কেন্দ্রীয় এলাকায় আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল পরিচালিত হচ্ছে।

সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পরিবহন সংযোগ নিশ্চিত করে এসব টার্মিনাল নগর পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আইপিডি বিদ্যমান চারটি বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনাল এলাকায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বাস ডিপো নির্মাণ, ফিডার সার্ভিস চালু, বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজি ও রুট পারমিট বাণিজ্য বন্ধ এবং টার্মিনালগুলোকে মাল্টিমোডাল পরিবহন কেন্দ্রে রূপান্তরের সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।