ঢাকায় ছেলেদের ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু আজ। পল্টনের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রথম দিনই মাঠে নামছে সাফের সবচেয়ে সফল দল ভারত ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। বিকাল সাড়ে ৩টায় ভারত খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। রাত ৮টায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান।

এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল। নেপাল এবার অনুপস্থিত। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও ভুটান। ‘এ’ গ্রুপে খেলছে বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলংকা এবং ‘বি’ গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ।

সাফের রাজা ভারত। আগের ১৪ আসরের মধ্যে ৯ বার শিরোপা জিতেছে দেশটি। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো সাফ শিরোপা জয় করে। সেবার ঢাকায় বসেছিল সাফ আসর। মালদ্বীপ সাফ শিরোপা জয় করে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে। আফগানিস্তান ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো সাফ শিরোপা জয় করে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সামনে আজ পাকিস্তান, যারা কখনো সাফের ফাইনালেও উঠতে পারেনি। এরপরও দুই চিরবৈরি দেশের ম্যাচ হওয়ায় উত্তেজনা ঠিকই থাকছে। পাকিস্তান অধিনায়ক আলমগীর গাজী বললেন, আজকের ম্যাচটি তাদের জন্য ‘স্পেশাল’।

ঢাকায় ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাফ জয়ের আসরে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল পাকিস্তান। এবার ভারত এসেছে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে। তবে, পাকিস্তান অধিনায়ক সতর্ক ভারতকে নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করব। কারণ এটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ ম্যাচ এবং আমরা সত্যিই ভালো খেলব। দেখুন, এটি ফুটবল, তাদেরও ভালো দল আছে, এমনকি তাদের দ্বিতীয় দলটিও ভালো। আমরা আমাদের ফুটবল খেলব, কারণ এটি একটি বিশেষ ম্যাচ, আমাদের উভয়ের জন্যই বিশেষ ম্যাচ, তাই তাদের সাথে ভালো লড়াই করব। তাদের কঠিন সময় দেওয়ার চেষ্টা করব।’

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সহকারী টিটাস ব্র্যামবল বলেন, ‘পাকিস্তানে আমাদের একটি ভালো অনুশীলন ক্যাম্প হয়েছে এবং আমরা শুরু করতে প্রস্তুত।’

bhutan

ছবি: ভুটান ফটুবল

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স হতাশাজনক। গত মাসে আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরে যায় লাল-সবুজরা। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুঠবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ভালো করতে চান বাংলাদেশের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে রোমাঞ্চিত, স্পষ্টতই দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি, চার-পাঁচ মাস আগে থেকেই আমরা জানতাম যে সাফ টুর্নামেন্ট এই বছর আসছে এবং আমরা, পুরো দল, পুরো ফেডারেশন এটি নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত। তাই আমরা প্রথম ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছি এবং মে মাস থেকে প্রস্তুতির মাঝে স্পষ্টতই আমাদের কিছু উত্থান-পতন ছিল কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি তা নিয়ে আমি বেশ খুশি।’

তিনি আরো বলেন, ‘একজন ফুটবল খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে এগুলোই সেই ম্যাচ, যার জন্য আপনি প্রশিক্ষণ নেন, বড় টুর্নামেন্টগুলোর জন্য অপেক্ষা করেন এবং এই ২৩ বছরের ব্যাপারটি একদিক দিয়ে দেখলে, গত ২৩ বছরে চাপ হয়তো এখনকার চেয়েও বড় ছিল; কারণ, আমাদের জন্য এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, এবং আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে, আমরা ভালো করতে পারি এবং আপনারা জানেন, আমরা এটি জেতার চেষ্টা করব।’

ডুলি চান আসিয়ান কাপের জড়তা কাটিয়ে সাফে যেন আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে তার দল। তার কথায়, ‘এটি সব জায়গাতেই হয়, যখন আপনি কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজক হন এবং আপনি সেই টুর্নামেন্টের অন্য সব দলের সাথে সমানে-সমানে থাকেন, তখন ২৫ হাজার দর্শকের কারণে আপনার ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ থাকে। তাই স্পষ্টতই আপনি ফেভারিট; সবাই আপনার কাছে জয় প্রত্যাশা করে। আসিয়ান কাপে যে সমস্যাগুলো খুঁজে পেয়েছিলাম, তা হলো আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফুটবল খেলিনি। এজন্যই আমরা পুরোটা সময় ওই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করেছি।’