বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় নদীপথে শুরু হয়েছে বিপজ্জনক মৌসুম। অশান্ত মৌসুমের কারণে উপকূলের ৩ হাজার কিলোমিটার নদীপথে আগামী সাত মাস ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিআইডব্লিউটিএ। প্রতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপকূলে বিপজ্জনক মৌসুম বিবেচনা করে ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এ সময় সাগরঘেঁষা এ অঞ্চলে কেবল বে ক্রসিং সনদ (সমুদ্রে চলাচলযোগ্য নৌযান) ছাড়া অন্য কোনো লঞ্চ বা নৌযান চলতে পারবে না। যে কারণে মেঘনাসহ উত্তাল নদীগুলোয় ঝড়ের এ মৌসুমে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিআইডব্লিউটিএর আওতাধীন সি-ট্রাক চলাচলের কথা। কিন্তু সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে এসব রুটের যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে ছোট নৌযানে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীরা। দুর্ঘটনা এড়াতে তেমন প্রস্তুতিও নেই নৌ-সেক্টরে।
জানা গেছে, বরিশাল-ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট রুটে চলাচল করত সি-ট্রাক খিজির-৮। তবে এটি অনেক আগে থেকেই ডকইয়ার্ডে উঠে আছে। যে কারণে এ রুটে আর সি-ট্রাক চলছে না। ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাটে খিজির-৫ চলাচলের কথা থাকলেও শিগগিরই চলবে কিনা তার সদুত্তর নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। মনপুরা-শষীগঞ্জ রুটে সি-ট্রাক শেখ কামাল চলাচল করার কথা থাকলেও তা মিলছে না।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী না হওয়ায় বরিশাল-ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট রুটে সি-ট্রাক খিজির-৮ চলাচল আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। আগে বরিশাল থেকে সি-ট্রাক চলত বিপজ্জনক মৌসুমে। কিন্তু তা-ও চার বছর আগেই তা বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল থেকে সি-ট্রাক খিজির-৮ বন্ধ করার নেপথ্যে বেসরকারি নৌযান মালিকরা। সি-ট্রাক বন্ধ করে সেখানে চলাচল করছে ট্রলার ও স্পিডবোট।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিসির অসাধু কর্মকর্তা ও লঞ্চ মালিকরা আঁতাত করে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রেখেছেন। এতে কালবৈশাখী ঝড়সহ প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে উপকূলের হাজারো যাত্রী। যদিও এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের তেমন প্রস্তুতি নেই।
বিপজ্জনক মৌসুমে বরিশাল নগরীসংলগ্ন ডিসি ঘাট এবং লাহারহাট থেকে কয়েকশ স্পিডবোট অনুমোদন ছাড়াই চলাচল করছে। বিআইডব্লিউটিএ বলছে, স্পিডবোট চলাচলে কোনো বৈধতা নেই। এর পরও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাত্রী নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিয়ে ভোলা, মেহেন্দীগঞ্জ ছুটছে স্পিডবোট। হিজলা উপজেলার বাউশিয়া থেকে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে নিয়মিত মেহেন্দিগঞ্জের লালখারাবাদ ও দাতপুরে যাত্রী পরিবহন করা হয় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে। এছাড়া হিজলার হরিণাথপুর থেকে ট্রলারযোগে মেঘনা পাড়ি দিয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট সংলগ্ন আবুপুরে পৌঁছায় এসব ট্রলার। একইভাবে উপকূলীয় এলাকা ভোলার মনপুরার সাকুচিয়া জনতা ঘাট থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়ায় ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলার আকৃতির লঞ্চ চলাচল করে। মনপুরার রিজিরখান থেকে নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত ছোট লঞ্চ চলাচল করে অশান্ত এ মৌসুমে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি বরিশালের সহমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) কেএম এমরান খান বলেন, ‘বরিশালে চার বছর ধরে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রুটে চলাচল করলেও সি-ট্রাক বরিশালে নেই। যার কারণে অশান্ত মৌসুমে যাত্রী পরিবহনের জন্য কিছু বেসরকারি নৌযানকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’










