কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয় ছাড়া রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল রাজধানীতে সমাবেশের ঘোষণা দেয়ার পর এমন নির্দেশনা এল।

বিএনপি গতকাল বেলা ৩টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ডেকেছিল। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একই সময়ে রাজধানীর গুলিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের ডাক দেয়। এতে ঢাকার পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয় বলে ডিএমপি সূত্র নিশ্চিত করেছে।    

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার কেএন রায় নিয়তি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজধানী ঢাকার শৃঙ্খলা রক্ষায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আন্দোলন কর্মসূচির নামে রাজধানীবাসীর জানমালের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’   

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী এবং সরকার দলীয় সংগঠন ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হন। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোটা সংস্কারের বিষয়ে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। 

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা আসে আন্দোলনকারীদের পক্ষে। পূর্বঘোষিত সেই কর্মসূচি পালন করতে ওইদিন সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে বৃহস্পতিবারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সারা দেশে প্রাণ হারান অন্তত ৩১ জন, আহত হন সহস্রাধিক।