নগরবাসীর লাগাতার আন্দোলন ও আলটিমেটামের পর সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) নতুন গৃহকর স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে জানিয়েছেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সেক্ষেত্রে রাজশাহী বা খুলনার মতো সিটির সঙ্গে মিল রেখে তা করা হবে।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মেয়র। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মেয়র জানান, নগরবাসীর কষ্ট লাঘবে তিনি ও তার পরিষদ নতুন গৃহকর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সম্প্রতি সিলেট নগরী উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গৃহকরকে কেন্দ্র করে। কর বেড়েছিল কোথাও সহস্রগুণ, কোথাও আবার কয়েকশ গুণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে। এ নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নগর ভবনে সাধারণ সভা হয়।

সভাশেষে সাংবদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আপাতত এ অ্যাসেসমেন্ট বন্ধ থাকবে। আবার নতুন করে তা করা হবে। সেক্ষেত্রে রাজশাহী বা খুলনার মতো সিটির সঙ্গে মিল রেখে তা করা হবে। কাউন্সিলরসহ নগরীর প্রতিটি এলাকার সচেতন মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই হোল্ডিং ট্যাক্স রি-অ্যাসেসমেন্ট করা হবে।’

এরই মধ্যে যারা নতুন অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী ট্যাক্স প্রদান করেছেন, তাদের অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করারও ঘোষণা দিয়েছেন সিসিক মেয়র। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এর আগে পঞ্চবার্ষিক পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন গৃহকর নির্ধারণ করে সিসিক। এতে দেখা গেছে, নগরীর প্রায় এক লাখ ভবন মালিকের গৃহকর ৫-৫০০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ কর নির্ধারণ যৌক্তিক বলে দাবি করলেও ভবন মালিকরা অযৌক্তিক বলে আসছিলেন।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, যে হারে গৃহকর নির্ধারণ হয়েছে তা একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথমে মাঠ পর্যায়ে জরিপ হয়। এরপর ২০২১ সালের আগস্টে তৎকালীন পরিষদের বিশেষ সভায় এটি পাস হয়।