ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিয়োগবাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদেন্ত পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক জামিনুর রহমান ও উপপরিচালক ইউসুফ আলী খান স্বাক্ষরিত দুটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটিতে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহেরকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান ও সদস্য সচিব একই বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী খান।

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসানের বিরুদ্ধে গঠিত কমিটিতে জেনারেল সার্ভিসেস, এস্টেট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক জাফর আহমদ জাহাঙ্গীরকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মৌলি আজাদ ও সদস্য সচিব একই বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী খান।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উল্লিখিত পত্রের সংযুক্তিতে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তপূর্বক দ্রুত সম্ভব কমিশন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্তের স্বার্থে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো নথি ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

ইউজিসির পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হলেও এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি বলে দাবি করেছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসান। তিনি বলেন, ‘কমিটিসংক্রান্ত কোনো চিঠি আমরা এখনো পাইনি।’

এ বিষয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

গত দুই বছর ইবি উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের একাধিক নিয়োগবাণিজ্যের অডিও ফাঁস হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের ‘কণ্ঠসদৃশ’ নিয়োগসংক্রান্ত প্রায় ১৫টি অডিও বিভিন্ন নামের ফেসবুক আইডি থেকে ভাইরাল হয়। অডিওতে ভাইভার আগে চাকরির প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথন ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শোনা যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা আন্দোলন ও ভিসির কার্যালয়ে তালা, ভিসির একান্ত সচিবকে অব্যাহতি এবং শিক্ষক সমিতির ও শাপলা ফোরামের নেতারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা ও তদন্তের দাবি করেন।

এছাড়া ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসানের ঠিকাদারের সঙ্গে ‘অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত’ ফোনালাপ ফাঁস হয়।