রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে আজও যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শত শত যাত্রী ও চালককে। বৈরী আবহাওয়া, নাব্য সঙ্কট ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুট বন্ধ থাকার কারণে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বেশ কিছুদিন ধরে এ পরিস্থিতি চলে আসছে।
মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায়, রাজবাড়ীর
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ
হ্যাচারি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুই সারিতে শতশত যানবাহন পারের অপেক্ষায়
রয়েছে।
এরমধ্যে এক সারিতে
অপচনশীল পণ্যবাহী ৩ শতাধিক ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এবং অপর সারিতে ২ শতাধিক পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস নদী
পারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
যশোর থেকে আসা ট্রাক চালক রনজিত্
সরকার বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট মানেই যেন ভোগান্তি। প্রতিনিয়তই এমন ভোগান্তির শিকার হয়ে ফেরি পারাপার
হতে হয়। নদী পারাপারের জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমনকি কয়েক দিন
পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হয়। এই দুর্ভোগ যেন শেষ হবার নয়।
অপর ট্রাক চালক খায়রুল মিয়া
বলেন, গতকাল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় এসেছি। সেখানে সারা রাত থাকার পর আজ মঙ্গলবার
বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছেছি। কখন ফেরি পার হবো বলা মুশকিল। অপরদিকে গাড়িতে থাকা
পণ্যের মালিক বার বার ফোনে তাগাদা দিচ্ছে। সময় মতো ঢাকায় না পৌঁছাতে পারলে তাকেও লোকসান
গুনতে হবে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের
ব্যবস্থাপক মো. জামাল উদ্দিন জানান,
বৈরী আবহাওয়া ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুট বন্ধ থাকায় ওই রুটের
যানবাহনগুলোও এখন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট ব্যবহার করছে। যে কারনে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে প্রতিনিয়তই যানবাহনের
লম্বা সারি তৈরি হচ্ছে। তাদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এই নৌরুটের
বর্তমানে ১১ টি রোরো এবং ৬ টি ইউটিলিটি ও ২ টি মাঝারীসহ মোট ১৯ টি ফেরি দিয়ে যানবাহন
পারাপার করা হচ্ছে। দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নদী পার
করা হচ্ছে।










