ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম জোনের আওতায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ জোনের দুটি রেঞ্জেই পৃথক কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে ৭ জন্য করে সদস্য রয়েছেন। এ কমিটি সুন্দরবন ও বন বিভাগের স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করবেন। কমিটি তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আম্পানের আঘাতে সুন্দরবনে বন বিভাগের কয়েকটি জেটি, বনবিভাগের স্থাপনার চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনের মধ্যে তৈরি করা মিষ্টি পানির আধার পুকুর লবণ পানিতে ভেসে গেছে। আর বনের মধ্যে সামান্য কিছু গাছ পালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যপ্রাণির কোনো ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তারপরও কমিটি গঠন গঠনের মাধ্যমে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে।

এদিকে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা, ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত সামনে থেকেই প্রতিরোধ করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। আর এবার সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের মূল আঘাত না এলেও ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলকেও অগ্রভাগে থেকে রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় ফণী থেকেও উপকূলীয় মানুষকে রক্ষা করেছে এ সুন্দরবন। প্রাকৃতিক ঝড় ঝাঞ্ঝায় সামনে থেকেই প্রতিরোধে থাকা সুন্দরবনকে রক্ষায় সরকারি বেসরকারি সব পর্যায় থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি তুলেছেন নাগরিকরা।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে আম্পানে ক্ষতি নিরূপণে কাজ করা হচ্ছে। বনরক্ষী ও কর্মকর্তারা ঝড়ের কারণে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। পর্যবেক্ষণ করে সুন্দরবনের ক্ষয় ক্ষতি নিরূপণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিবারই বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সুন্দরবন নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়ে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করেছে। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্টি অ্যান্ড উডটেকনোলজির প্রফেসর ড. মো. ইনামুল কবীর বলেন, আমাদের রক্ষা করার জন্যই সুন্দরবনের সৃষ্টি। এ বন রক্ষায় আমাদেরও করণীয় রয়েছে। আমরা যদি বনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না করি তাহলে এ সুন্দরবন আবার বেড়ে উঠতে সক্ষম হবে। 

সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করায় আম্পানের তাণ্ডব কম হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও সম্পদ রক্ষা করতে লড়াই করলো সুন্দরবন। 

তিনি বলেন, আম্পান যে গতি নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল তার প্রভাব আটকে দিয়েছে সুন্দরবনের গাছপালা। সবসময়ই ঢাল হিসেবে কাজ করছে সুন্দরবন। ভারতে আম্পানের মূল আঘাতের পর ২০০ মাইলের মধ্যে থেকেই সুন্দরবন বাতাসের গতিবেগ প্রতিরোধে ভূমিকা নিয়েছে। ভারতে মূল ঝড়ের আঘাত ১৮০ কিলোমিটার হলেও খুলনায় এ আঘাত ৯০ কিলোমটিারের মধ্যেই ছিল। সুন্দরবনের গাছপালা ঝড়ের গতিকে ছাকনির মত ছেঁকেছে। আর গতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। সুন্দরবন না থাকলে খুলনায় বাতাসের গতিবেগ আরও বেশি থাকত।  এ কারণে সুন্দরবনকে রক্ষায় আমাদেরকে সক্রিয় হতে হবে। সরকারি বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ করতে হবে। কোনভাবেই সুন্দরবনের ক্ষতি হতে দেয়া যাবে না।