গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মার্কাজ মহল্লা এলাকার পরশের ছেলে প্রদীপ, বাবুলের ছেলে পিয়াস, চাঁন মিয়ার ছেলে হেলাল, মিয়াবাড়ির সাফায়েতের ছেলে ইমন ও নবীনবাগ এলাকার ওহিদুজ্জামানের ছেলে নাহিদসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ধর্ষণে জড়িত ব্যক্তিরা পেশাদার অপরাধী। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান গোপালগঞ্জ সদর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। দোষীদের
গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে গত তিনদিন আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
বিচার দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন: শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচার দাবিতে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মানববন্ধন করেছে।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব, প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. কামরুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু বিচার না হলে এর পুনরাবৃত্তি হওয়া স্বাভাবিক। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিন্দা জানাই। আমাদের শিক্ষার্থীরা যারা বাইরে থাকেন, তাদের ব্যাপারে আমরা দ্রুত আবাসনের ব্যবস্থা নিয়েছি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, জাতির পিতার পুণ্যভূমিতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা আসলেই দুঃখজনক। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি, আশা করি দ্রুত সুষ্ঠু বিচার পাব। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমরা এলাকার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে শিগগিরই আলোচনায় বসব। যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।










