অজিদের ১৯৮ রানে অলআউট করা সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে গতকাল দ্বিতীয় দিন মাঠ ছেড়েছে। ৪ উইকেট হাতে রেখে টাইগারদের লিড ১৫৩ রানের।
তানজিদ হাসান তামিমের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি (১০১) ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে (৮৪) ভর করে সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তানজিদ। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান গ্রেট হানিফ মোহাম্মদ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এ সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন শান্তও, তবে বাংলাদেশ দলনায়ক পারেননি।
দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনে ২৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। দ্বিতীয় সেশনে ২৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তারা পায় ১০৫ রান। টাইগারদের কঠিন সময় যায় তৃতীয় সেশনের শুরুর দিকে। শেষ পর্যন্ত ৩২ ওভারের এ সেশনে ৩ উইকেটে ৬৫ রান সংগ্রহ করে তারা। সব মিলিয়ে ৮৬ ওভারের দিনে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান তুলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ওভারপ্রতি তিনের কম রান উঠলেও সব মিলিয়ে দেড়শ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মুমিনুল হক সৌরভের ৪৯ রান সকালে বাংলাদেশের ভালো সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দেয়। মুশফিকুর রহিম করেন মূল্যবান ৩৬ রান। মুমিনুলের সঙ্গে ১৮৯ বলে ১০২ ও শান্তর সঙ্গে ১৫৭ বলে ৯৩ রান যোগ করে তানজিদ দলের সংগ্রহটা বড় করতে সাহায্য করেন। অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নকে ছক্কা মারতে গিয়ে ১০১ রানের মাথায় লং অফে ক্যাচ দেন তিনি। তানজিদের ধৈর্যশীল ইনিংসের প্রথম ৫০ এসেছে ১০২ বলে, এ সময় বাউন্ডারি ছিল ৫টি। পরের ৫০ করেন ৮৬ বলে, মেরেছেন তিনটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। সেঞ্চুরির পর লায়নকে ছক্কা মারতে গিয়ে ১০১ রানের মাথায় ক্যাচ দিয়েছেন লং অফে।
বামহাতি ওপেনার তানজিদ ১৯৭ বলে ১০১ রান করে আউট হওয়ার পর মুশফিককে নিয়ে ৯৮ বলে ৬৬ রান যোগ করেন শান্ত। একটি সময় থামতে হয় শান্ত ও মুশফিককে। শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করে জস হ্যাজেলউডের শিকার হন। চোট কাটিয়ে ফেরা লিটন দাস ১২ বলে শূন্য রানে মিচেল স্টার্কের শিকার হয়েছেন। পরের ওভারে মুশফিককে (৫৫ বলে ৩৬) ফেরান প্যাট কামিন্স। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে দেখতে না দেখতেই ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সেরা সময় এটুকুই। ৮০.১ ওভারে দ্বিতীয় নতুন বল নেয়ার পরপরই ‘ট্রিপল স্ট্রাইক’-এ অজিরা আউট করে শান্ত, লিটন ও মুশফিকের মতো তিন নির্ভরযোগ্য ব্যাটারকে।
অজিদের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দিনের শুরুর মতো শেষটাও নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। সপ্তম উইকেটে দুর্দান্ত লড়াই করে ১৪৭ বল মোকাবেলা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। দুজন বোর্ডে ৪৩ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন থেকে মাঠ ছাড়েন। বল হাতে ৬ উইকেট নেয়া হাসান ব্যাট হাতেও দৃঢ়তা দেখান। তিনি ৭৬ বল মোকাবেলা করে ২ বাউন্ডারিতে ১৩ রান করে অপরাজিত রয়েছেন, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এক ইনিংসে এটাই তার সর্বোচ্চ বল খেলার রেকর্ড।
মিরাজ ও হাসানের ব্যাটে চালকের আসনে বাংলাদেশ। তবে দেড়শ রানের লিড পেয়েই কি স্বস্তিতে বাংলাদেশ? ইতিহাস বলছে, এখনো নিরাপদে পৌঁছেনি টাইগাররা। আর দলটির নাম যখন অস্ট্রেলিয়া তখন যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় দেড়শ রানের লিড নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য প্রথম ইনিংসে ১০০ রানে পিছিয়ে পড়েও অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ জিতেছিল ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
দ্বিতীয় দিন ব্যাটিং করার সময় নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তানজিদ হাসান বলছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো একটা দিন পার করেছি আমরা। আমাদের প্ল্যানিং এ রকম ছিল যে, প্রথম সেশনটা কীভাবে পার করতে পারি। ওরাও ভালো বোলিং করেছে। তবে আমাদের চেষ্টা ছিল, আমরা বাড়তি কিছু করব না।’
প্রথম ইনিংসে কত রান করতে পারলে নিজেদের কাজটা সহজ হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে তানজিদ বলেন, ‘যেহেতু আমাদের সামনে তিনদিন বাকি আছে কাজেই যতটা বেশি সময় ব্যাটিং করা যায়, তত ভালো। যত বেশি রান দেয়া যায় আমাদের বোলারদের জন্য কাজটা তত ইজি হবে।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজেলউড ২/৬৮)।—দ্বিতীয় দিন শেষে।










