যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর ও খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। প্রায় চার দশক ধরে এ অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতার দুঃসহ যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে। বছরজুড়ে পানির সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয় তাদের। বর্ষা এলে দুর্ভোগ আরো বহু গুণ বেড়ে যায়। যশোরের দুই অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সংকট তৈরি করেছে জলাবদ্ধতা। অভয়নগর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উঁচু স্থানে হলেও মণিরামপুর ও কেশবপুর এলাকার স্কুল-কলেজগুলো কিছুটা নিম্নভূমিতে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও নদীর উপচেপড়া পানিতে এ দুই উপজেলার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। শ্রেণীকক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে, উপজেলার ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস নিতে হচ্ছে অন্যত্র। স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা জহির উদ্দীন বলেন, ‘১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া ১০টি বিদ্যালয়ের মাঠ প্লাবিত হয়েছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘উপজেলার ২৫টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসা প্লাবিত হয়েছে। কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের মাঠও প্লাবিত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বাবু বলেন, ‘স্কুলের চারটি শ্রেণীকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় ক্লাস নিতে হচ্ছে অন্য স্থানে। স্কুলের পাশে একটি ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।’

কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন শিকদার জানান, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য নুরানিয়া স্লুইচগেট থেকে বড়েঙ্গা পর্যন্ত হরিহর নদের এক পাশ দিয়ে নালা করা হচ্ছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে বড়েঙ্গা থেকে নদের চার কিলোমিটার এবং বড়েঙ্গা ত্রিমোহনা থেকে আপার ভদ্রার ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার খননকাজ চলমান রয়েছে।

একই অবস্থা মণিরামপুর উপজেলার বিদ্যালয়গুলোরও। উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে, উপজেলার ২৫টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বিকল্প উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।