লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জনবল ও অপারেশন থিয়েটারে যন্ত্রপাতির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ‘আবাসিক মেডিকেল অফিসার’ পদটি দীর্ঘদিন শূন্য। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারও বন্ধ থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে কোটি টাকার যন্ত্র। প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন ও নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে হাসপাতালে কর্মরতদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১২ সালের ২২ মে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট মঞ্জুরীকৃত ৮৮টি পদের মধ্যে ৩৯টি শূন্য। এর মধ্যে ২০টি পদে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ডেন্টাল সার্জনসহ মাত্র সাতজন চিকিৎসক রয়েছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছয়টি পদের মধ্যে আছেন মাত্র দুজন। হাসপাতালের বিভিন্ন ধাপে ৩০টি কর্মচারী পদের মধ্যে কর্মরত ১৮ জন। স্বাস্থ্য পরিদর্শক দুটি পদের মধ্যে আছেন একজন ও স্বাস্থ্য সহকারী ৩০টি পদের মধ্যে ২১টি পদে জনবল রয়েছে।
পায়ে ক্ষত নিয়ে আদিতমারী মহিষখোঁচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া এলাকার মুক্তার আলীর ছেলে জামাল হোসেন (৪২) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, ‘আমরা নদীভাঙা এলাকার গরিব মানুষ। আমি হাসপাতালে ভর্তি আছি, কিন্তু কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। রংপুরে গিয়ে ভালো চিকিৎসককের পরামর্শ নেয়ার টাকাও নেই। আমরা যেন এ হাসপাতালেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাই সেই দাবি জানাই।’
নিরাপত্তা প্রহরী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আমি একাই পাহারা দিই। একজন মানুষের পক্ষে এটি কীভাবে সম্ভব?’
জানতে চাইলে অফিস সহকারী শফিক আহমেদ সুজা বলেন, ‘আমাদের জনবল সংকটের কারণে অফিশিয়াল কার্যক্রমে কিছু বিঘ্ন ঘটছে। এতে সবাই ভোগান্তির মধ্যে আছে। এজন্য জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।’
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. আজমল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আদিতমারী উপজেলাটি উন্নয়নের দিক থেকে একটু পিছিয়ে। এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এ হাসপাতাল। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ শিশু রোগী বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাদানে আমরা চেষ্টা করছি।’
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদ হোসেন জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। এরই মধ্যে জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছি। এছাড়া এ হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে অপারেশন থিয়েটারটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কারণে অপারেশন থিয়েটারের জন্য একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, একটি অটোক্লেভ মেশিন, দুটি সুয়েচার মেশিন, ডিয়ারমি মেশিন, একটি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, একটি ওটি লাইট, একটি ওটি টেবিল ও দেড় টন দুটি এয়ার কন্ডিশনারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। মাত্র তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই কষ্টকর। এছাড়া একজন সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে পুরো হাসপাতাল কমপ্লেক্স নিরাপদ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলে স্থানীয় জনগণের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে।’










