চট্টগ্রামের দুর্বৃত্তদের গোলাগুলির ঘটনায় চোখে গুলিবিদ্ধ ১১ বছরের শিশু রেশমি আক্তার মারা গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে সাতদিন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় শিশুটি মারা যায়।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার সময় মায়ের জন্য পান কিনতে বাসা থেকে বের হয় শিশু রেশমি। পথে দুর্বৃত্তদের মধ্যে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যায় সে। ওই ঘটনায় রাজু নামে এক যুবক নিহত হন। বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি। সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে টানা ৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানল শিশুটি।

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. কে এম বাকী বিল্লাহ সবুজ জানান, গুলিটি রেশমির চোখে লাগলেও সেটি মস্তিষ্কে আটকে ছিল। এতে তার মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুলিটি এমনভাবে আটকে ছিল, কোনোভাবে দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রেশমির বাম চোখ দিয়ে গুলিটি প্রবেশ করে মাথার পেছনের অংশে আটকে ছিল। বিষয়টি গুরুতর হওয়ায় তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের কয়েক দফা চেষ্টার পরও গুলিটি অপসারণ সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেশমির বাবা রিয়াজ আহমদ একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি। রৌফাবাদ কলোনির সামনে শাক বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। পাঁচ সন্তানের মধ্যে রেশমি সবার ছোট। দুই ছেলে কাজ করে এবং এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। রেশমি স্থানীয় ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ত। এ ঘটনায় নিহত রাজুর মা বায়োজিদ থানায় মামলা করলে মূল আসামিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।