বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরগুনায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে বিপদ সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে জোয়ারের পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে করে বরগুনা পৌরশহরের নিম্নাঞ্চল ও উপকূলীয় চরাঞ্চলের বহু নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে উঁচু জোয়ারের চাপে বড়ইতলা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে যাওয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও অমাবস্যার কারণে নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে পানি ঢুকে পড়েছে। পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের পথগুলোর ওপর পর্যাপ্ত নজর না থাকায় জলাবদ্ধতা আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।

Image 2025-05-29 at 3.44.23 PM (6)

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে বরগুনার নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

জানা গেছে, অস্বাভাবিক জোয়ারে নদী তীরবর্তী বড়ইতলী, পোটকাখালী, মাঝেরচর, বাওয়ালকারসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও বরগুনার তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী ও আমতলী উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও বেড়িবাঁধ ভাঙনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, উচ্চ জোয়ারে বরইতলা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে গেছে। যাত্রীরা প্রায় কোমর পানি পেরিয়ে পন্টুন থেকে তীরে উঠছেন। যাত্রীবাহী বাসসহ অনেকগুলো ছোট বড় যানবাহন প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে দুই তীরেই অবস্থান করছে। তবে জোয়ারের চাপ কমে গেলে এই যানবাহনগুলো পারাপার হবে বলে জানিয়েছে ফেরি কর্তৃপক্ষ।

Image 2025-05-29 at 3.44.23 PM (4)

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত হোসেন মেহেরাজ বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে বরগুনার নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে । বাঁধের বাইরের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের বাঁধ ভেঙে কোনো এলাকা পানিতে প্লাবিত হওয়ার খবর নেই।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আলম জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে।