দিনাজপুরের হাকিমপুরে তাপপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এতে সেচ সংকটে পড়েছে কৃষক। ধানখেতে ঠিকমতো পানি দিতে পারছেন না। সেচের অভাবে মাটি ফেটে যাচ্ছে। গাছ নুয়ে পড়ে লাল বর্ণ ধারণ করছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোকশানের আশঙ্কা কৃষকের। কৃষি বিভাগের দাবি, পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। তাপপ্রবাহের তেমন প্রভাব পড়বে না ধান উৎপাদনে।
স্থানীয় কৃষক জানান, দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার অধিকাংশ ধানের শীষ বের হয়েছে। তবে কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ৪০-৪১ ডিগ্রি বিরাজ করছে। সে সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। এ কারণে ধান খেতে চাহিদামতো পানি দিতে পারছেন না গভীর নলকূপের মালিকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে।
হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষাণী জুলেখা বেগম বলেন, ‘একে তো ধান আবাদে গত বছরের তুলনায় খরচ অনেকটা বেশি হয়েছে। জ্বালানি তেল, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ার কারণে খরচও বেশি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে যে গরম পড়েছে, তাতে মাটি শুকিয়ে ধান খেতের অবস্থা খারাপ। এর ওপর বিদ্যুৎ থাকছে না। জমিতে ঠিকমতো পানি দিতে পারছেন না গভীর নলকূপের মালিকরা। ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে তো আবার ৩ ঘণ্টা থাকছে না।’
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘গত কয়েকদিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা এর ওপরে থাকছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাঠের যে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি, তাতে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। জমিতে ৫-৭ সেন্টিমিটার করে পানি ধরে রাখার কথা বলা হচ্ছে। যাতে করে হিট ইনজুরির কারণে ফসলের কোনো ক্ষতি না হয়। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর হিলি সাবজোনাল অফিসের এজিএম বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘আমরা চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এ কারণে লোডশেডিংয়ের মাত্রাটা বাড়ছে। যেখানে আমাদের চাহিদা ৯ মেগাওয়াট, সেখানে আমরা পাচ্ছি সাড়ে ৪ মেগাওয়াট। আবার কখনো কখনো আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছি। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’










