বর্ষা মৌসুমে কাঁচামরিচের চাহিদার বড় একটি অংশের জোগান আসে ফরিদপুর থেকে। তবে এবার মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মরিচ গাছ। পর্যাপ্ত সেচের অভাবে ফলনও হয়েছে কম। স্বাভাবিক সময়ে এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে মরিচের ফলন হয় ১৬-১৭ মণ। এতে খরচ হয় ২১-২২ হাজার টাকা। এবার ৩২ হাজার টাকা খরচ করে সেই জমিতে এখন পর্যন্ত আধা মণ মরিচ পাওয়া গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সর্বোচ্চ পাঁচ-ছয় মণ উৎপাদন হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে ১০-১২ মণ ফলন হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষক। বাজারে বর্তমানে এক মণ মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার টাকা। দাম বাড়লেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীকে।

মধুখালী উপজেলার আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক মরিচ নিয়ে এসেছেন। মরিচ বিক্রি করতে আসা উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আমডাঙ্গা উপজেলার কৃষক শহিদুল ইসলাম ও রায়পুর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজার এলাকার চাষী শামীম মোল্লা জানান, মৌসুমের শুরুতে খরা আর অনাবৃষ্টির কারণে বাড়তে পারেনি মরিচ গাছ। অনেক জমির মরিচ গাছ শুকিয়ে গেছে। বিগত বছরগুলোয় যে জমিতে ১০-১২ মণ মরিচ উৎপাদন হয়েছে, সেই জমিতে এবার আধা মণ মরিচও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ১২ হাজার টাকা মণ দরে মরিচ বিক্রি করেও লোকসান হচ্ছে তাদের। এছাড়া সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত সেচের কারণে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় দাম বাড়লেও উল্টো লোকসান হচ্ছে।

উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর ও ঘোষকান্দিসহ কয়েকটি স্থানে সবচেয়ে বেশি মরিচ উৎপাদন হয়। সেসব স্থানে দেখা গেছে, জমিতে গাছ থাকলেও গাছে মরিচ নেই বললেই চলে। খরায় মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকে পরিচর্যা করেননি। আবর্জনায় ভরে গেছে সেসব জমি। তবে যারা কিছুটা পরিচর্যা করেছেন, সেসব জমিতে ফুল আসতে শুরু করেছে নতুন করে।

ঘোষকান্দি এলাকার চাষী তামিমুর রহমান ও আমিরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিনে বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে গাছে ফুল এসেছে। এতে কিছুটা হলেও আশায় বুক বাঁধছেন চাষীরা। নতুন করে ফলন ভালো হলে লোকসান কিছুটা কমবে। ফলন ভালো হলে ২-৩ হাজার টাকা প্রতি মণ মরিচ বিক্রি হলেও চাষীরা লাভবান হবেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মরিচ সরবরাহ বেশি হলে কম লাভে কেনাবেচা করতে পারলেও তারা লাভবান হন। মধুখালীর আড়ত থেকে আষাঢ়-শ্রাবণে উৎপাদিত মরিচ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তবে পর্যাপ্ত মরিচ কিনতে না পারায় শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান ও আড়তদার সাইফুল মোল্লা জানান, মধুখালীর বাজারে প্রতিদিনই দাম ওঠানামা করছে। প্রতি মণ ১১-১২ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। অন্য বছর এ সময়ে বিপুল পরিমাণ মরিচ বাজারে চলে আসে, কিন্তু এ বছর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহাবুব ইলাহী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খরার কারণে মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচের অভাবে সময়মতো ফলন আসেনি। এতে বাজারে পর্যাপ্ত মরিচ সরবরাহ হচ্ছে না। বৃষ্টির পর গাছে নতুন করে ফুল এসেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত মরিচ বাজারে আসবে। উপজেলায় এ বছর ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছে, যা থেকে ২০ হাজার ৪০০ টন উৎপাদন হতে পারে।’