কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার  করেছে র‍্যাব-১২। বুধবার রাতে ভেড়ামারার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার পাঁচজনই মামলার আসামি। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুটি দেশে তৈরি অস্ত্র ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।  গতকাল দুপুরে র‍্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভেড়ামারা উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের সোনা মালিথার ছেলে মিন্টু মালিথা, চাঁদপুর গ্রামের নজরুল মালিথার ছেলে রনি মালিথা, আব্দুল হামিদ ওরফে কটার ছেলে জনি ও ড্যানি, মৃত জফো প্রামাণিকের ছেলে জারমান প্রামাণিক। 

র‍্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মিন্টু মালিথা ও রনি মালিথার দেখানো জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতার মিন্টু মালিথা ও রনি  মালিথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। বাকি তিনজন তাদেরকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন। দীর্ঘদিন চলা বিরাজমান বংশগত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ মালিথা বংশের লোকজনের হাতে খুন হন সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে চরপাড়া মাঠে চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে (৫০) দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সিদ্দিকীর ছোট তিন ভাই ও ছেলেও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় জাসদকে দায়ী করতে থাকেন। 

১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম স্বপন, তার ছোট ভাই চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাফিজ তপন ও দলের ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই এনামুল হক। 

এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকার রাজনীতি। ওর এলাকাতেই বাড়ি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুল উল আলম হানিফ ও জাসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জোট সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর। ইনু ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে কুষ্টিয়া-২ আসনে (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

এ ঘটনায় বিবৃতি দেন জাসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার। তারা এ মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দেন। এদিকে এ বিবৃতির পর ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগ পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে পুনরায় এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জাসদকেই দায়ী করে।