কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পূর্ববিরোধের জেরে শালু মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে অপহরণের তিন মাস ২০ দিন পর মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে উপজেলার বাঘেরহাটের দক্ষিণ পাশের টেকানী গ্রামের জিনিজরাম নদীর পাড় থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত ১১ ফেব্রয়ারি রাতে শালু মিয়াকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। পরে ২৯ এপ্রিল শালু মিয়াকে অপহরণের অভিযোগ এনে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, খয়বর আলীসহ অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করে রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন স্ত্রী রেজেকা খাতুন।
এ ঘটনায় গত ৩০ মে রাতে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে রৌমারী থানায় এনে ৩১ মে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য ও একই ইউনিয়নের চর কাউয়ারচর (বাঘেরহাট) গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে। হত্যার শিকার শালু মিয়া একই গ্রামের মৃত চান মণ্ডলের ছেলে।
আটক ইউপি সদস্য জাকিরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার ঢাকায় অভিযান চালিয়ে শালু মিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খয়বর আলী ও জিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের রৌমারী এনে গতকাল শালু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত খয়বর আলী (৩২) রৌমারী উপজেলার ঝগড়ার চরের হকের ছেলে এবং জিয়া (৫০) কাউয়ার চরের তালেবের ছেলে।
হত্যার শিকার শালু মিয়ার স্ত্রী রেজেকা খাতুন বলেন, আমার স্বামী শালু মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের ব্যবসায়িক বিরোধ চলে আসছিল।
এরই সূত্র ধরে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য জাকির হোসেন আমার স্বামীকে ফোনে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের স্লুইসগেট এলাকায় আসতে বলেন। আমার স্বামী তার ফোন পেয়ে দ্রুত সেখানে চলে যান। আমিও তার পিছু পিছু সেখানে যাই। গিয়ে দেখি জাকির হোসেন, খয়বর আলীসহ অজ্ঞাত আরো দু-তিনজন সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল। তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্বামীকে জোরপূর্বক তারা তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। রৌমারী থানায় ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।










