জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছে চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল। নিউইয়র্কে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার দেশের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচি ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বপরিসরে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অংশগ্রহণ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এবারের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীর মধ্যে অর্থমন্ত্রী, পর্যটনমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী ঢাকা থেকেই তার সঙ্গে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। সেখানে আরো যোগ দেবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যাচ্ছেন দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন।
২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের জন্য দেয়া সংবর্ধনায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
পরদিন সকালে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকটবিষয়ক বৈঠকে বক্তব্য দেবেন।
বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
একই দিন বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি পার্শ্ব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হবে এ বৈঠকে।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আয়োজিত এ বৈঠকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয় তুলে ধরবেন তিনি।
সেদিন বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় বক্তব্য দেবেন। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নতুন যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহারসহ বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এদিন মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা নিয়ে আয়োজিত বাংলাদেশের আরেকটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি এ সফরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়ালস্ট্রিট, মেটা এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এসব আলোচনায় বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বোয়িংয়ের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘পরিকল্পিত সবকিছু যে অবশ্যই হবে কিংবা পরিকল্পনার বাইরে কিছু যোগ হবে না, এমন নয়। সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।’
পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।










