রাজশাহী মহানগরীতে ৩১ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। ব্যয়ও ২৩৮ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৮৮ কোটি টাকা। কিন্তু করোনা মহামারীর প্রভাবে এ পার্কের বাস্তবায়নকাজ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে করে সংশোধিত সময়েও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তাই আরো এক দফা দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খরচ আরো প্রায় ৪৮ কোটি টাকা বা প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্প্রতি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহী’ শীর্ষক বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধনীর ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।
দ্বিতীয়বার সংশোধন বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, কভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণের কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মহামারী এবং সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে প্রকল্পের আওতায় ক্রয় করা বিদেশী ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল ইকুইপমেন্টগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো এবং ইনস্টলেশনের জন্য আরো চার-পাঁচ মাস বেশি সময় প্রয়োজন হবে। এছাড়া এ বছর ভারি বর্ষণ ও বন্যার কারণে নির্মাণকাজ প্রায় পিছিয়ে গেছে। সেজন্য প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ১০ তলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবনটি নতুন নামকরণ করায় এবং প্রকল্পের কার্যপরিধি বাড়িয়ে কতিপয় নতুন কিছু কাজ যুক্ত হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল মিউজিয়াম, মসজিদ, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ড্রাইভওয়ে, সিকিউরিটি পোস্ট এবং ওয়াকওয়েসহ অনাবৃত এলাকায় সবুজায়ন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, এ প্রকল্পটি ২৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক সমিতির নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২৮৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা করে বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এবার দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে প্রকল্পের ব্যয় আরো ৪৭ কোটি ৭৯ লাখ বাড়িয়ে ৩৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।
সভাপতি মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম সভায় প্রকল্পের বিষয়ে কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে প্রকল্প ব্যয় প্রয়োজনের নিরিখে যথাসম্ভব হ্রাসপূর্বক একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে যথাসময়ে প্রকল্প সমাপ্তির গুরুত্বারোপ করেন। প্রকল্পটি যেন আবার সংশোধন বা সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানাতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক একেএএম ফজলুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো-সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তরে রয়েছে। মূলত করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ অনেকটা পিছিয়ে গেছে। তাই দ্বিতীয়বার সংশোধনীর প্রয়োজন হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে নতুন কিছু কাজ যুক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় অনেক কম ধরা হয়েছিল। এসব খাত সমন্বয় করায় ব্যয় বাড়ছে। প্রকল্পের মেয়াদ আরো দেড় বছর বাড়ছে, এটিকেও সার্বিক ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।
জানা গেছে, এরই মধ্যে ১০ তলার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পাশেই লাগোয়া সিনেপ্লেক্স ও অডিটোরিয়াম ভবন তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে। এছাড়া পার্কের ভেতরে চওড়া সড়ক নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে জ্ঞানভিত্তিক আইটি ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করা, জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করার মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করা, নতুন আইটি উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এ পার্ক তৈরির পর এখানে ১৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এছাড়া দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী যাতে এখানে তাদের কার্যক্রম শুরু করেন, এজন্য সাতটি প্লটও রাখা হয়েছে পার্কে। যাতে বড় আইটি কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারে।










