কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২। র্যাব জানায় গ্রেফতার পাঁচজনই ওই মামলার আসামী। তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪টি গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, বুধবার
রাতে ভেড়ামারার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ভেড়ামারা উপজেলার চন্ডিপুর
গ্রামের মিন্টু মালিথা, চাঁদপুর গ্রামের রনি মালিথা, দুই ভাই জনি ও ড্যানি এবং জারমান প্রামানিক।
র্যাব জানায়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মিন্টু মালিথা ও রনি
মালিথার দেখানো জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে
ব্যবহৃত দুইটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
গ্রেফতার মিন্টু মালিথা ও রনি মালিথা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। স্থানীয় জনগণ অনেকেই গ্রেফতার
মিন্টু মালিথা ও রনি মালিথাকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে এবং বাকি তিনজনকে অন্যান্য সহযোগিতা করতে দেখেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাব
জানায়, বংশগত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ মালিথা বংশের লোকজনের নির্মম হত্যার শিকার হন চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক (৫০)। গত শুক্রবার সকালে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে তাকে। এ ঘটনায়
সিদ্দিকের ছোট তিন ভাই ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হন। সকাল ৯টার দিকে
চরপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, শুক্রবার সকালে মাঠে কাজ করছিলেন সিদ্দিক। হঠাৎ সেখানে চার-পাঁচজনের একটি দল অস্ত্র হাতে হাজির হয়ে গুলি চালায়। এতে সিদ্দিক, তার ছেলে ও তিন ভাই গুলিবিদ্ধ হন। সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিদ্দিককে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় জাসদকে দায়ী করতে থাকেন।
শনিবার রাতে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও
কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম স্বপন ও তার ছোট ভাই চাঁদগ্রাম
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাফিজ তপনও দলের ভেড়ামারা উপজেলার ২০ নেতা
কর্মীকে আসামী করে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই এনামুল হক।
এ ঘটনায় বিবৃতি দেন জাসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসানুল হক
ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার। তারা এ মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
আখ্যা দেন। এদিকে এ বিবৃতির পর ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন
করে পুনরায় এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জাসদকেই দায়ী করে।
একাধিক সূত্র জানায় জোটের শরিক হলেও এই জেলায় দুটি দলের
মধ্যে ব্যাপক বৈরি সম্পর্ক। প্রায় উভয় দলের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে থাকেন। গত
১২ বছরে ঐ দুই উপজেলায় দুই দলের মধ্যে প্রায় ২০-২২টি সংঘর্ষে আওয়মী লীগের তিন
নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।










