গতকাল সারা দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা থেকে মোট ১০২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলের উড়োজাহাজ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে চট্টগ্রামের আকাশপথেও। গতকাল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সব মিলিয়ে ২৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দিল শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

চলমান পরিস্থিতির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, যা তাদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এয়ারলাইনস ও ট্রাভেল এজেন্টদের পক্ষ থেকে সময়মতো তথ্য না পাওয়ায় যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে ভিড় করছেন।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিরাপত্তার কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে এসব গন্তব্যের ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’ তিনি এ পরিস্থিতির জন্য ট্রাভেল এজেন্টদের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, ‘যাত্রীরা অনেক সময় ফ্লাইট বাতিলের সঠিক তথ্য পান না, যার ফলে তারা বিমানবন্দরে এসে সমস্যার সম্মুখীন হন। এজেন্টরা ঠিকমতো তথ্য না পৌঁছানোর কারণেই যাত্রীরা ব্যাগপত্র নিয়ে বিমানবন্দরে চলে এসে বিপদে পড়ছেন।’

ফ্লাইট বাতিলের এ তালিকায় গতকাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এয়ার অ্যারাবিয়া। তাদের মোট আটটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক খাতের বড় এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে এমিরেটসের পাঁচটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও কাতার এয়ারওয়েজের চারটি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই দিনে ফ্লাই দুবাইয়ের চারটি ও কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো কিছু রুটে এখনো সীমিত পরিসরে উড়োজাহাজ চলাচল সচল থাকায় অনেক যাত্রী এ আশায় বিমানবন্দরে ভিড় করছেন যে হয়তো কোনো বিকল্প উপায়ে বা হঠাৎ ফ্লাইট চালু হলে তারা গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা না কাটা পর্যন্ত এ ফ্লাইট বিপর্যয় সহজে স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরেও আটকা পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশী। আটকে পড়া মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের কর্মক্ষেত্রে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন তারা। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অনেক বাংলাদেশী নাগরিক বর্তমানে দেশে আটকা পড়েছেন। যখনই ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে, সরকার তাদের দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’