জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অনেকেই ভেবেছিল কয়েকটি আসনের লোভ দেখিয়ে তাদের কিনে নেবে। কিন্তু যারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে, তাদের কেনার সাধ্য কারো নেই। সাতক্ষীরায় এক পথসভায় এমন মন্তব্য করে তিনি জানান, নির্বাচনের ভাগ নয়, তারা সাহসী সংস্কার ও দেশের পুনর্গঠন চান।

আজ শনিবার (১২ জুলাই) সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আসিফ চত্বরে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর ঘিরে দলের অন্যান্য নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক কামরুজ্জামান বুলু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজবাহ কামাল ও চিকিৎসক তাসনিম জারা। স্লোগান পরিচালনা করেন সংগঠনের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

সভায় বক্তারা জানান, জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রস্তাব এনসিপি আগেই দিয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ না করে বিভিন্ন মহল নির্বাচনকেন্দ্রিক হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত থেকেছে। এনসিপির মতে, জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব ৫ আগস্ট সামনে আনা হয়েছিল, তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। বরং ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা বেশি হয়েছে। এতে করে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে মূল লক্ষ্য, তা উপেক্ষিত হয়েছে বলেই মনে করছে দলটি।

পথসভায় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ বরাবরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ভোগের মধ্যেও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করে এসেছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও এখানে রেললাইন পৌঁছায়নি— এটি হতাশাজনক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পরিবেশ খাতে বিদ্যমান অব্যবস্থা দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সভা শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা নিউ মার্কেট এলাকা থেকে হাটের মোড় পর্যন্ত একটি পদযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা শহরের আল বারাকা হোটেলের দ্বিতীয় তলায় এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।