সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তন আজ। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এবার সমাবর্তনে ৬ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে স্নাতক ৪ হাজার ৬১৭ ও স্নাতকোত্তর ১ হাজার ১২৭ জন রয়েছেন।
এদিকে তৃতীয় সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সেজেছে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের মূল ফটক, এক কিলোমিটার সড়ক, গোলচত্বর, বঙ্গবন্ধু চত্বর, চেতনা একাত্তর, বিভিন্ন একাডেমিক ভবন রঙ-বেরঙে সাজানো হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট, বিভাগগুলোর করিডোর। কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, গাছগাছালিও সেজেছে বর্ণিল সাজে।
সমাবর্তন ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সমাবর্তন প্রত্যাশীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। শাবিপ্রবির সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকবেন লেখক ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
শাবিপ্রবি সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় সমাবর্তনে ৬ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেন। এর মধ্যে স্নাতক ৪ হাজার ৬১৭ জন, স্নাতকোত্তর ১ হাজার ১২৭, পিএইচডি দুজন, এমবিবিএস ৮৭৮, এমএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ছয় এবং নার্সিংয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকে সর্বোচ্চ ফলধারী ১২ শিক্ষার্থী ও স্নাতকোত্তরে আট শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। অন্যদিকে অনুষদে প্রথম হওয়া ৮৯ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।
এদিকে সমাবর্তন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় ৫০টি অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স), পুলিশসহ
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সমাবর্তনে রেজিস্ট্রেশন করা কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী কুমরি গৌরব রায় বলেন, সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে এসে অনেক ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে এসে আগের অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। আবারো পুরনো বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আশা করি অনেক সুন্দর একটি দিন কাটবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, সমাবর্তনের প্রস্তুতি শেষ। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি রাষ্ট্রপতি ও গ্র্যাজুয়েটদের বরণ করে নিতে। সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে আমাদের যেসব পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আশা করি সমাবর্তনে কোনো রকম ঘাটতি থাকবে না এবং শিক্ষার্থীদের সুন্দর সমাবর্তন উপহার দিতে পারব। সমাবর্তন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।










