ফেনীতে সন্তানদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে সালিশি বৈঠকে দুই মাকে নাকে খত দিতে বাধ্য করানোর ঘটনায় সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ মে) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দেলু ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি তাকে এ পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামে সালিশি বৈঠকে সন্তানদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে তাদের মায়েদের নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি লাঠি দিয়ে তাদের একজনের শরীর আঘাত ও লাঞ্ছিত করেন বিএনপি নেতা দেলু।

গত রোববার এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। একই দিন এ ঘটনায় অভিযুক্ত সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলুকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা বিএনপি।

সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী এক নারী।অপর আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ রিসাল, মাইনুদ্দিন বেনু, গিয়াস উদ্দিন, মাইনুদ্দিন সোহাগ, মোহাম্মদ আজাদ, অনিক, সামসুর রহমান লাভু, ইব্রাহিম খলিল, বাইট্টা নেজাম, মাইনুদ্দিন জাসিম ও সোহেল। তারা সবাই পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং ওই সালিশি বৈঠকে ছিলেন।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী থানায় মামলা করেছেন। বুধবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দেলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।