বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্য লগ্ন মহালয়া আজ। এদিন মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজার ক্ষণগণনা শুরু হবে।
মহালয়া তিথি শুধু শারদিয়া দেবীর পূজা শুরুর তিথি তা নয়, এ তিথি পরলোকগত পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ (জলদান) করে শ্রদ্ধা জানানোরও।
পক্ষকাল পিতৃপক্ষের অবসানের পর শুরু হয় দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের সন্ধির তিথি হলো মহালয়া। মহালয়া অমাবস্যা, শারদিয়া দেবী দুর্গার অমাবস্যার বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদিয়া দুর্গা পূজা। শাস্ত্রমতে, দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এ মহালয়া তিথিতে। এ তিথিতেই শারদিয়া দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। সকালে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে জানানো হবে আহ্বান।
মহালয়া উপলক্ষে চণ্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা করা হবে। মূলত মহালয়া মানেই দুর্গা পূজার দিন গণনা শুরু হয়ে যাওয়া।
মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাণে আছে—দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব মহালয়া, বোধন আর সন্ধি পূজা। মহালয়ার ভোর থেকেই শুরু হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা। সনাতন ধর্মে বলা হয়, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনা করেন অনেকে। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল-তিল-অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করা হয়।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গা পূজা শুরু হলেও মূলত আজ থেকেই দুর্গা পূজার আগমনধ্বনি শোনা যাবে। দুর্গা পূজার এ সূচনার দিনটি সারা দেশে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপন হবে। মহালয়া উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দির ও পূজা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র মাধ্যমে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
দেবী দুর্গার আগমনিবার্তা বহনকারী মহালয়া উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন মন্দিরে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা ও ব্রাহ্মণদের বস্ত্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাসের নিজ আবাস থেকে মর্ত্যলোকে তার পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন, যা দুর্গা পূজা উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়।
এছাড়া ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ, চণ্ডী পূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়ার ঘট স্থাপন করা হবে।










