বণিক বার্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৯ম নন-ফিকশন বইমেলার পর্দা নামছে আজ। শেষ দিন সকাল দশটা থেকেই বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। শিক্ষাঙ্গনের পরিচিত পরিবেশে বইয়ের গন্ধ, পাঠকের কৌতূহল আর আলাপচারিতায় এক অনন্য আবহ তৈরি হয়েছে।

এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে ৩৯টি প্রকাশনী স্টল। আজ সকাল থেকেই প্রতিটি স্টলেই চোখে পড়ছে দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। অন্যান্য বইমেলায় যেখানে সাধারণত ফিকশন বইয়ের দিকেই পাঠকদের ঝোঁক বেশি থাকে, সেখানে এ মেলায় গত দুই দিন ধরেই দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। নন-ফিকশন বইয়ের নিয়মিত পাঠকদের পাশাপাশি সাধারণ পাঠকরাও ইতিহাস, সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিনির্ভর বই সম্পর্কে ধারণা নিতে ভিড় করছেন স্টলগুলোয়।

পাঠক সমাবেশের এক প্রতিনিধি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নন-ফিকশন নিয়ে আলাদা করে এমন মেলা খুব একটা হয় না। নন-ফিকশনের পাঠকসংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় শুরুতে বিক্রি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু গত দুই দিনে বিক্রি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। অনেক পাঠক বইয়ের নাম নোট করে গেছেন, আর আজ সকাল থেকেই তারা সেই বইগুলো কিনছেন। শেষ দিনে বিক্রি আরো ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
মেলায় যেকোনো বই ২৫ শতাংশ ছাড়ে কেনার সুযোগ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ব্যবসা ও অর্থনীতিসহ নানা বিষয়ের বই সংগ্রহে ব্যস্ত দেখা গেছে তাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী নাবিল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরেই মেলা হওয়ায় ক্লাস শেষ করেই চলে এসেছি। গত দুই দিন ঘুরে ঘুরে বই দেখেছি, আজ সব কিনব। কম দামে এত ভালো বই পাওয়া যাচ্ছে,এটা আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের।’

মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। আজ শেষ দিন র্যাফেল ড্র-এর বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। তাই সকাল থেকেই পাঠকরা বই কিনে কুপন জমা দিচ্ছেন এবং বণিক বার্তার স্টল থেকে র্যাফেল ড্র সংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই আয়োজন পাঠকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, যা শেষ দিনে এসে আরো উজ্জ্বল করে তুলেছে ৯ম নন-ফিকশন বইমেলার সমাপ্তির মুহূর্ত।











