পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলায় চলমান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা থাকলেও আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চাইছে না ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। গত শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় প্রশাসন তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানালেও তেমন সাড়া মেলেনি।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় চলমান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জানমালের নিরাপত্তা স্বার্থে গতকাল ভোর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।
তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি সরকারি কাজে নিয়োজিত নৌযানগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর: ০১৮২০-৩০৮৮৬৯ ও ০২৩৩৩৩৭১৬২৩।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে রাঙ্গামাটি শহর ও বিভিন্ন উপজেলাগামী মানুষ। গত বৃহস্পতিবার থেকে রাঙ্গামাটিতে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ও সড়কে মাটি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শনিবার সন্ধ্যায় ঘাগড়া-বরইছড়ি সড়কের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে গত শুক্রবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জেলা শহরের রূপনগর, শিমুলতলী, মুসলিম পাড়া, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানালেও ঝুঁকিতে থাকা মানুষেরা আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে আসছে না। শনিবার বিকালেও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য বলেছেন। তবে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটি শহরের ১৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কেবল বাংলাদেশ বেতারের আশ্রয় কেন্দ্রের ১০-১৫ জন মানুষ এসেছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাত পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টিপাত যদি অব্যাহত থাকে সেক্ষেত্রে ঝুঁকিতে থাকা মানুষরা আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে আসতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও সহকারী কমিশনার বিজয় কুমার জোয়ার্দার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রের আশ্রয় কেন্দ্রে ১০-১৫ জন এসেছে। যারা এসেছে তারা জানিয়েছে আরো মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসবে, তারা অনেককেই আনতে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টিপাত বেড়েছে, আমরা আশা করছি মানুষ রাতের মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে আসবে। যারা রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকবে তাদের জন্য খাবার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একযোগে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে থাকাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আসার জন্য বলছে। এক্ষেত্রে অনেকেই আসছে না। বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বৃষ্টিপাত যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আমরা তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) রাঙ্গামাটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘রাঙ্গামাটির ঘাগড়া-বরইছড়ি সড়কে ছোটখাটো পাহাড়ধসের খবর পেয়েছি। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে যতটুকু জেনেছি সড়কে যান চলাচল বন্ধের মতো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি।’
রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটিতে ৭৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৭.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল ৯৪ মিলিমিটার।










