দুই সপ্তাহ ধরে বেতন না পাওয়া, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত বকেয়ার তৃতীয় কিস্তি না পাওয়াসহ সাত দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন সিলেটের তারাপুর চা বাগানের শ্রমিকরা। শনিবার কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। গতকালও কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। কর্মবিরতির কারণে শুকনো মৌসুমের কলম বন্ধ থাকায় চা উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাগানসংশ্লিষ্টরা।

দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীকাল থেকে কর্মবিরতির পাশাপাশি অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে তারাপুর চা বাগান শ্রমিক ও পঞ্চায়েত কমিটি।

চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কর্মবিরতির কারণে শুকনো মৌসুমের কলম বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেতন না পাওয়ায় তাদের ঘরে অভাব দেখা দিয়েছে। সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না তারা।

তারাপুর চা বাগানের শ্রমিক মমতা রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চা বাগানই আমাদের জীবন। চা বাগান বন্ধ থাকুক এটা আমরা চাই না। দুই সপ্তাহ ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। ঘরে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে পেটের তাগিদে আন্দোলন শুরু করেছি।’

এ বিষয়ে চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল মোদি জানান, কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির কারণে বারবার বেতন আটকে যাচ্ছে। এতে শ্রমিক পরিবারে সংকট বাড়ছে। বেতন না পাওয়ার কারণে সংক্রান্তি উৎসব পানসে হয়ে গেছে। তারা অচলাবস্থার অবসান চান। বারবার চা বাগান বন্ধ থাক সেটা তারাও চান না। অভাবের তাড়নায় তারা আন্দোলন করছেন।

পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি চৈতন্য মোদি জানান, দুই সপ্তাহ ধরে চা শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছেন না। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বকেয়া বেতনের তৃতীয় কিস্তিও তারা পাচ্ছেন না। অধিকার হারিয়ে, অধিকার পাওয়ার দাবিতে আগামীকাল সকাল থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন তারা।

সার্বিক বিষয়ে তারাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শ্রমিকরা বাগান বন্ধ রেখেছেন। বেতন-ভাতা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’