মানিকগঞ্জ শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে জেলা শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরাও জড়িয়ে পড়ে। এতে এই তিন সংগঠনের অন্তত ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংঘর্ষের কারণে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আজ মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে জেলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ, দলীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা শ্রমিক লীগের বাবুল সরকার ও আবদুল জলিল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সকালে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে জেলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারে যান। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগ ফুল দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা আলাদা ব্যানারে ফুল দেয়ার জন্য শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।
পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান ফুল দেয়ার জন্য জেলা শ্রমিক লীগের নেতা আবদুল জলিলের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় জেলা শ্রমিক লীগের আরেক নেতা বাবুল সরকারের অনুসারীরা প্রতিবাদ করেন। তখন শ্রমিক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি নিয়ে নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু করেন। জেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা শ্রমিক লীগ নেতা জলিলের পক্ষে এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা বাবুল সরকারের পক্ষ হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান বলেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শেই শ্রমিক লীগের নেতা জলিলের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীন বলেন, আমি ফুল দেয়ার পর সভাপতির বক্তব্য দিয়ে শহীদ মিনার থেকে চলে আসি। পরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর শুনেছি। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আহসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সানজিদ কাজল ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা জসিম উদ্দিন।
সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।










