বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন লক্ষ্মীপুরের বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ৮টা থেকে রায়পুর রাখালিয়া বাজারে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনচালকরা।
খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একই সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউসুফ জালালও ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তারা কারখানার ম্যানেজার (প্রশাসন) সাইফুল কবির, সিনিয়র প্রডাকশন ম্যানেজার নজরুল ইসলামকে নিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে শ্রমিকদের আজ দুপুর ১২টার মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাবে এক মাসের বেতন দেয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বোনাসের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে লিখিত কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের এ আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেন।
শ্রমিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেরই ছয় মাস, তিন মাস ও দুই মাস এবং ওভারটাইমের টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে নোটিস ছাড়া ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। সকালে কারখানায় গিয়ে তালা ঝুলতে দেখেন শ্রমিকরা।
এ ব্যাপারে রায়পুর থানার ওসি ইয়াছিন ফারুক মজুমদার বলেন, ‘বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
রায়পুর সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউসুফ জালাল কিসমত বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এক মাসের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু শ্রমিকরা তা মানতে নারাজ।’
সর্বশেষ দুপুর পৌনে ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান খান মালিক-শ্রমিক পক্ষের লিখিত যৌথ চুক্তি পড়ে শোনান। তিনি জানান, আজ শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারির বেতনের সঙ্গে ঈদ বোনাসের ২৫ শতাংশ এবং ঈদের পরে মার্চের বেতনের সঙ্গে অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে।
তবে উপস্থিত শ্রমিকদের একাংশ এ ঘোষণা না মেনে তিন মাসের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ফের রাস্তায় বসে পড়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশের প্রতি ইটের টুকরা নিক্ষেপ করেন। এ সময় পুলিশ লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।










