গোপালগঞ্জে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। স্থানীয় গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে চার বছর ধরে চলছে কেবল ফাইল চালাচালি। এতে একদিকে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ, অন্যদিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহতরা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যেই রয়েছে ক্ষোভ। জেলা সিভিল সার্জন অবশ্য জানিয়েছেন, জনবল নিয়োগের পরে ট্রমা সেন্টারের সেবা কার্যক্রম চালু হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১৪ সালের মার্চে চারতলাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টার ভবনের কাজ শুরু হয়। ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে ডিসেম্বরে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঠেলাঠেলিতে চালু করা যায়নি সেন্টারটি। পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল প্রশাসনিক ভবনসহ ডরমিটরি ভবনের বিভিন্ন অংশ, আসবাবপত্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট। আর ঘাস আর লতা-পাতায় ঘিরে রেখেছে পুরো সেন্টারটিকে, বৃষ্টির পানি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন ভবনের ফ্লোর ও ছাদ। ভেতরে দিনের বেলায় চরে বেড়ায় গরু-ছাগল। আর প্রতি রাতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ট্রমা সেন্টার চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে খুব দ্রুতই এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে মানুষ।