টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন। দেশে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর এ আইনে এটিই প্রথম রায়।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল, সুনিল মণি ঋষির ছেলে সুজন মণি ঋষি, মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র, বদন চন্দ্র মণি ঋষির ছেলে সঞ্জিত, একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের শ্রী দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপি চন্দ্র শীল। এদের মধ্যে সনজিৎ এবং গোপি চন্দ্র শীলকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা রয়েছে। তবে বাকিরা এখনও পলাতক।
রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার। আর মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মামলার শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভিকটিমকে আইনি সহায়তা দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার বলেন, ২০১২ সালে সাগর চন্দ্র শীলের সাথে মোবাইলে পরিচয় হয় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ওই মাদরাসা ছাত্রীর। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ওই ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসা যাওয়ার পথে শালদাইর ব্রিজের কাছে পৌঁছুলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে তাকে এলেঙ্গা নিয়ে যায়। সেখান থেকে মধুপুরে চারালজানি গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে ওঠে। সেখানে তার চার বন্ধু ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু ধর্মের বলে তার সে প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মেয়েটি। এ কারণে ওই রাতে সাগর রাজনের বাড়িতে আটক রেখে ধর্ষণ করে। পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে সেখানে তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে যায়। পরদিন ভোরবেলা স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে স্বজনরা এসে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদি হয়ে ভুঞাপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দন্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুজন মণি ঋষিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। ১৯ জানুয়ারি আসামী সুজন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সনজিত ও গোপি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্যদিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এ মামলার রায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত।
এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রট, চিকিৎসক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মামলার বাদী ভিকটিমসহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দিলেন আদালত। মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও গোলাম মোস্তফা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন ন্যায় বিচার পেতে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।










