পেসমেকার বসানোর পর ৭২ ঘণ্টার জন্য খালেদা জিয়াকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সম্পূর্ণ আলাদাভাবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর আগে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করতে চান না চিকিৎসকরা। গতকাল সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এমনটাই জানান।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, সবকিছু পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ড তার হার্টে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বিশেষায়িত কক্ষে (ক্যাথল্যাবে) নিয়ে পেসমেকার স্থাপন করা হয়। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার জন্য খালেদা জিয়াকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার।
শনিবার রাতে হঠাৎ খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত ভর্তি করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে। তাৎক্ষণিক তার ফুসফুসের পানি অপসারণ করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিনসহ ১১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এছাড়া লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ চিকিৎসক জোবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ বোর্ডে যুক্ত আছেন।
এর আগে চলতি বছরের ২ মে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউতে রেখে দুদিন চিকিৎসা দিয়েছিলেন।










