রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল বুধবার (২৬ জুন) এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে কী ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে তা এখনো জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে  দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে দেয়া। সে কারণেই তাকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। এটি একেবারেই মিথ্যা মামলা, এর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন, ‘লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।’ যা বাংলাদেশে সম্ভব নয়।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের কোনো কৃতিত্ব নেই জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যা করেছি আমরাই করেছি, পরিবার, দল করেছে। আমরা বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে এসেছি। এটা কোনো সমাধান নয়। একমাত্র সমাধান হচ্ছে, যেখানে তার সঠিক চিকিৎসা হবে সেখানে পাঠানো।

পরিবারের আবেদনক্রমে বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠানোর সব ব্যবস্থা হয়েছিল- এমন তথ্য জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ফাইনালি এটি যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেছে, তিনি এটাকে রিজেক্ট করেছেন। শুধু এটাই নয়, বিভিন্ন মিশনগুলোকেও আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। তারা চেষ্টা করেছে। তারা বলেছেন, ‘সরি। উনি (প্রধানমন্ত্রী) শুনবেন না।’

এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) যাতে কোনোভাবেই মুক্তি না পান সেটি চলছে, এবার নির্বাচনে, ঠিক যেভাবে ’১৮ সালের নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে। ঠিক সেভাবেই নির্বাচনের এক মাস আগে থেকেই বিএনপি যাতে নির্বাচনে না আসে, সেজন্য দুই দিনে ২৭ হাজার গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার চায় না বিএনপি কোনো নির্বাচনে আসুক। সরকার জানে, বিএনপি নির্বাচনে এলে তাদের জামানত থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।