দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অভ্যন্তরে কর্মরত বাংলাদেশ ও চীনের মোট ৮১ শ্রমিক করোনা আক্রান্ত। এ কারণে তিন মাস বন্ধ থাকার পর তিনদিনের মাথায় গতকাল থেকে পরীক্ষামূলক কয়লা উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জন চীনা ও ৩৩ জন বাংলাদেশী শ্রমিক বলে জানা গেছে।

কয়লা খনি সূত্র জানায়, ২৭ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে নতুন ফেজে পরীক্ষামূলক কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। এ সময় খনিতে ৩০০ চীনা ও ৪০০ বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করছিলেন। শ্রমিকদের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ায় দুই দফায় নমুনা দেয়া হয়। এতে মোট ৮১ শ্রমিক করোনা পজিটিভ হন। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে কয়লা উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে করোনার উপসর্গ বেড়ে যায়। চীনা নাগরিকসহ বাংলাদেশী শ্রমিকদের দুই দফায় করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৬ জুলাই প্রথম দফা পরীক্ষায় ১৪  চীনা নাগরিক ও ৩১ বাংলাদেশী শ্রমিকের করোনা পজিটিভ আসে। সংক্রমণ আরো বেড়ে গেলে শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষায় ৩৪ জন চীনা ও দুজন বাংলাদেশী শ্রমিক করোনা পজিটিভ হন। মোট ৪৮ চীনা ও ৩৩ বাংলাদেশী কয়লা শ্রমিক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন সাময়িক বন্ধ ঘোষাণা করা হয়েছে। 

সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, করোনা আক্রান্ত চীনা শ্রমিকদের খনির ভেতরে আইসোলেশনে রাখা এবং বাংলাদেশী শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মাথায় পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় কয়লা উত্তালন শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।