কয়েক বছর আগে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ন্যূনতম শর্ত বেঁধে দিয়ে একটি নীতিমালা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ওই নীতিমালার সঙ্গে আরো কঠিন শর্ত যোগ করার সুযোগ থাকলেও এর কোনো নির্দেশনা শিথিলের সুযোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। যদিও ইউজিসির নীতিমালায় বর্ণিত ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সহযোগী অধ্যাপক পদে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (সিবিআইইউ) বিরুদ্ধে।

গত ২১ নভেম্বর খান মো. সরফরাজ আলীকে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিয়ে একটি পত্র দেয় বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিবিআইইউ। নিয়োগের জন্য জমা দেয়া বৃত্তান্ত অনুযায়ী সরফরাজ আলীর সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতাই নেই।

ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী পিএইচডিসহ সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে তিন বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। এছাড়া পাঁচটি প্রকাশনার শর্ত রয়েছে, যার তিনটি প্রকাশনা লাগবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। যদিও বৃত্তান্তমতে, সরফরাজ আলী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক (বিজনেস) ও সেন্টার পর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের পরিচালক পদে নিয়োজিত ছিলেন। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরফরাজ আলী মূলত প্রশাসনিক কাজেই নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে হাতেগোনা দু-একটি কোর্স পড়াতেন। এছাড়া ইউজিসির দেয়া প্রকাশনার শর্তও পূরণ করা হয়নি এ নিয়োগের ক্ষেত্রে।

ন্যূনতম যোগ্যতা ছাড়াই সরফরাজ আলীকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিবিআইউর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার অধ্যাপক আবদুল হামিদ বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর সহকারী অধ্যাপক পদে কাজ করার সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদায় কাজ করার কথা বলেছেন। সেটিকে সহকারী অধ্যাপক পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

যদিও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) তিনি সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার কোনো পদে কর্মরত ছিলেন না। এমনকি বিআইএম থেকে বের হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে নিয়োজিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরফরাজ আলী বলেন, আমার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা সংবলিত বৃত্তান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিয়েছি। তারা সে তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এখন নিয়োগের শর্ত পূরণ করে কিনা সেটির ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেবে। আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সিবিআইইউর রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলেন এহসান হাবীব। যদিও ২১ নভেম্বর দেয়া এ নিয়োগ বিষয়ে জানতেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এহসান হাবীব বলেন, রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকাকালীন উপাচার্য কার্যালয় থেকে সরফরাজ আলীর সিভি আমার কাছে পাঠানো হয়। সিভি অনুযায়ী তিনি লোক প্রশাসনে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক ডিগ্রি ও প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না করায় এ নিয়োগ সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিই। চলতি মাসের শুরু থেকে আমি সিবিআইইউর সঙ্গে নেই। সম্প্রতি জানতে পারলাম তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিন অনুষদের ডিনের দায়িত্বেও সরফরাজ আলী: এদিকে সহযোগী অধ্যাপক পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগের কয়েক দিনের মাথায় সরফরাজ আলীকে বিশ্ববিদ্যালয়টির তিনটি অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ৩ ডিসেম্বর সিবিআইইউর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বাক্ষরিত একটি পত্রে বলা হয়েছে, খান সরফরাজ আলীকে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজনেস স্টাডিজ, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্টস ফ্যাকাল্টির ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক বিষয়ের দেখভাল করেন একাডেমিক অ্যাডভাইজার একেএম গিয়াস উদ্দিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি সরফরাজ আলীকে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্তের বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য দেখেছেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ইউজিসির নীতিমালায় যে শর্তগুলো দেয়া হয়েছে, সেটি একদমই ন্যূনতম। অ্যাডহক কিংবা স্থায়ী—কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রেই এ শর্তগুলো পূরণের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আর ডিন পদে নিয়োগ দেয়ার তো কোনো সুযোগই নেই।