ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নতুনভাবে সক্রিয় হয়েছে বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ-ইওএম)। তাদের মতে, এ নির্বাচন নাগরিকদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই তারা এবারের নির্বাচনকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ভোট হিসেবে অভিহিত করেছে।

আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মূল্যায়ন তুলে ধরে এসব কথা বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইইউ পর্যবেক্ষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে কিছু স্থানে সহিংসতা ও উত্তেজনার ফলে প্রাণহানির ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি মূল্যবান।

ইইউ মিশনের প্রধান আরো বলেন, গত কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণে দেশে মতপ্রকাশ, সংগঠন, সমাবেশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় থাকতে দেখা গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর সংস্কার করা আইনি কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত দক্ষ ও পেশাদারত্বের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ছাত্র অভ্যুত্থান ছাড়া এ নির্বাচন সম্ভব হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণে উঠে আসা যেকোনো বিষয় সমাধানে কমিশন আন্তরিক ছিল। প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করাকে তিনি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, ভোটার ও প্রার্থী নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনটি প্রকৃত অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। তবে অপতথ্য নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে পর্যবেক্ষক দলের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণ মিশনের মতে, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতে পেরেছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও ছিল।

তবে নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইভার্স ইজাবস বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ৪ শতাংশের কম। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও হুমকি ও হয়রানির কারণে তারা প্রচারণা থেকে দূরে ছিলেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আরো কাজ করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি নতুন সরকারকে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করার আহ্বান জানান।